অভিষেকেই জয়ের নায়ক রোনান সুলিভান

অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ সাফ

Printed Edition
khela-1
বাংলাদেশের জার্সিতে যাত্রা শুরুর ম্যাচেই পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফুটবলার রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান : বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

  • বাংলাদেশ ২-০ পাকিস্তান
  • (রোনান সুলিভান ২)

বাংলাদেশের ফুটবলে এখন প্রবাসী ফুটবলারদের ঢেউ। সিনিয়র জাতীয় দলে হামজা বন্ধনা। আর জুনিয়র ফুটবলে গতকাল অভিষেকেই মাঠ মাতালেন রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে জন্ম হওয়া এই ফুটবলারের জোড়া গোলে কাল বাংলাদেশের জয়। মালদ্বীপের মালেতে চলমান অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ম্যাচে লাল-সবুজরা রোনানের কৃতিত্বেই ২-০ গোলে হারিয়েছে পাকিস্তানকে। এই জয়ের ফলে আসরের সেমিফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে পিটার কক্সের দল। তাদের পরের ম্যাচ ২৮ মার্চ ভারতের সাথে। পরশু ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে নেপাল ২-১ গোলে ভুটানকে এবং শ্রীলংকা ৩-২ গোলে মালদ্বীপকে হারায়।

এবারের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ তিন প্রবাসী ফুটবলারের উপস্থিতি। এরা হলেন রোনান সুলিভান, তার ভাই ডেকলান থিওডোরে সুলিভান ও ইব্রাহিম নেওয়াজ। কাল আসরের ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। এতে প্রথম একাদশে জায়গা পান শুরু ফরোয়ার্ড রোনানই। শুরু থেকেই এক চেটিয়া খেলা বাংলাদেশ দল যখন গোলের দেখা পাচ্ছিল না উল্টো চোখ রাঙাচ্ছিল পাকিস্তানি ফুটবলাররা। তখনই জ¦লে উঠেন যুক্তরাস্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় খেলা রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান। বিরতির পর তার জোড়া গোলেই জয়ে বাংলাদেশ পর্ব শুরু করলেন আইরিশ কোচ পিটার কক্স।

এই বাংলাদেশ দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই গত কয়েক বছর ধরে সাফ এবং এএফসির আসর খেলে আসছেন। এদের সাথে প্রবাসী ফুটবলাররা যোগ হওয়ায় শক্তি আরো বেড়েছে। যা তাদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের আত্মবিশ^াস বাড়িয়েছে। মালে স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর পর থেকেই মিঠু চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দলটি চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। মাঝ মাঠ থেকে নাজমুল হুদা ফয়সালের নিখুঁত পাস গুলো থেকে আসছিল গোলের চান্স। কিন্তু কখনও বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের গোললাইন সেভ কখনও কিপারের বাধায় গোল আসছিল না। আর মোর্শেদ আলীতো হাফ চান্স গুলো সাইড নেটে মেরেই দায়িত্ব শেষ করছিলেন। ফয়সালও একটি সুযোগ নস্ট করেন মানিকের পাস থেকে পাওয়া বল বার উচিয়ে মেরে। তখননই বিরতির পর দূর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে পাকিস্তানী গোলরক্ষকের সব চেস্টা ব্যর্থ করে দেন নানীর সূত্রে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হওয়া রোনান সুলিভান। এর আগে প্রথমার্ধে তার একটি গোল প্রচেস্টা পাকিস্তানী অধিনায়ক আলী জাফর গোললাইন থেকে রুখে দেন।

বাংলাদেশ দল ৪৯ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো। মোর্শেদ আলীর পাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন রোনান সুলিভান। তবে তার নেয়া মাটি কামড়ানো শটটি বিপক্ষ কিপার কাসিফের সরাসরি হাতে গেলে উৎসবটা হয়নি। এরপর ৫৪ মিনিটে বক্সের বেশ সামনে ফাউলের শিকার হন নাজমুল হুদা ফয়সাল। রেফারির দেয়া ফ্রি-কিক থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান রোনান সুলিভান। সাথে সাথেই মালে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার বাংলাদেশী সমর্থকদের উল্লাস। রোনানও আবেগ ধরে রাখতে না পেরে ছুটে যান গ্যালারির কাছে।

৬১ মিনিটে পাকিস্তান সমতা এনেছিল। কিন্তু রেফারির বদান্যতায় রক্ষা। পাকিস্তানি ফুটবলারের হেড জালে গেলেও রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজান। তার মতে হেডের সময় ফাউলের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশ কিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। তবে এর পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ বাংলাদেশের। ৬৭ মিনিটে বাম দিক থেকে শেষ সংগ্রামের ক্রসে মাথা লাগিয়ে ফের দর্শকদের বাঁধভাঙা উল্লাসের উপলক্ষ এনে দেন রোনান সুলিভান। বাংলাদেশ তৃতীয় গোলও পেতে পারতো। তবে সুমন সরেনের ক্রসে স্যামুয়েল রাকসামের হেড ক্রস বারে লাগলে তৃতীয় গোল হয়নি।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশী পতাকা হাতে নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিন করেন রোনান। সাথে তার ভাই। যোগ দের অপর প্রবাসী ইব্রাহিম নেওয়াজ সহ অন্য প্রবাসীরা।

দুই গোল দিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন রোনান। এরপর জানান, খুবই ভালো লাগছে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পেরে। এখন লক্ষ্য পরের ম্যাচে ভারতে হারানো এবং পরের সব ম্যাচেই জয়।