কৃষি খাতে ১১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে : তথ্য উপদেষ্টা

Printed Edition
3rd-1
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন : পিআইডি

বাসস

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান বলেছেন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা বছরে দুই হাজার টাকা করে প্রণোদনা পাবেন। পাশাপাশি কৃষিঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এই কার্ড কার্যকর হবে। এ খাতের উন্নয়ন বাজেট থেকে এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: জাহেদ উর রহমান আরো জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের আট বিভাগে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষককে এই কার্ড দেয়া হবে। প্রকল্পটি সফল হলে আগামী অর্থবছর থেকে এর পরিধি বাড়ানো হবে এবং পর্যায়ক্রমে আরো বেশি কৃষককে এর আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, জলমহাল আইন ২০২৬ প্রণয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে মতবিনিময় চলছে। এর মাধ্যমে জেলে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একই সাথে জলমহালের ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৮০০ জন হজযাত্রী হজ পালন করবেন। হজ ফ্লাইট কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং যাত্রীদের নির্বিঘœ যাত্রা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে হাম পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। টিকার কার্যকারিতা পেতে কিছুটা সময় লাগবে, তাই পরিস্থিতি উন্নত হতে ধৈর্য্য ধরতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, দুর্যোগ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্ভাব্য ভূমিকম্প মোকাবেলায় ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে জোর দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উপদেষ্টা আরো জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় ইটভাটায় কৃষিজমির মাটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। সেই সাথে নারী ও শিশু সুরক্ষায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০২৬’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে দ্রুত বিচার, সাক্ষী সুরক্ষা এবং ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

উপদেষ্টা আরো বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে এবং বিভিন্ন খাতে নেয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।