যুবদল নেতা মঈন গ্রেফতার চার সহযোগী রিমান্ডে
সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় প্রধান আসামি সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। একই ঘটনায় তার সহযোগী মঈন বাহিনীর আরো ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে চার সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
গতকাল সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো: ফালান মিয়া, মো: রুবেল, মো: সুমন ও মো: লিটন মিয়া। এর আগে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো: ছাব্বির আহমেদ আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং জানিয়েছে, প্রধান আসামি মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া থানা এলাকা থেকে এবং তার সহযোগীদের রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া অন্য দুই সহযোগী হলেন মো: স্বপন কাজী ও মো: শাওন হোসেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো: আবু হানিফের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ১০ এপ্রিল সকালে মঈনের নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জন লোক হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং হাসপাতালের মালিক বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক স্লোগান দেয়। এ ঘটনায় গত ১১ এপ্রিল আবু হানিফ বাদি হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কেবল এ হাসপাতালই নয়; মঈন বাহিনীর নেতৃত্বে শেরেবাংলা নগর এলাকার ৫০-৬০টি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত চাঁদাবাজি চলছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ চক্রটি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি দখলসহ সরকারি জমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে। গত দেড় বছর ধরে ওই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা ‘মঈন বাহিনী’ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদার পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।