মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
Printed Edition
টিআরটি ওয়ার্ল্ড
চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের একাধিক প্রতিষ্ঠান ও তাদের শীর্ষ নির্বাহীদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে বেইজিং জানিয়েছে, তাইওয়ানের জন্য রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির কারণে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রি ‘চীনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’ এবং তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
চীনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো, যারা তাইওয়ানের কাছে উন্নত যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। এ ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদেরও ব্যক্তিগতভাবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে তারা চীনে প্রবেশ করতে পারবেন না, চীনা কোম্পানির সাথে ব্যবসা করতে পারবেন না এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
বেইজিং বলছে, তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ করা ‘এক চীন নীতি’র সরাসরি লঙ্ঘন। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ মনে করে এবং বিদেশী শক্তির সামরিক সহযোগিতাকে কঠোরভাবে বিরোধিতা করে। চীনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে উসকে দিচ্ছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে।
অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ করা তাদের প্রতিশ্রুতির অংশ, যাতে দ্বীপটি আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে পারে। ওয়াশিংটন বারবার উল্লেখ করেছে যে তারা ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে আরো জটিল করে তুলবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আগেই তীব্র ছিল। এখন তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা যোগ করছে।
চীন সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে যদি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখে, তবে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মনে করছে, এই পরিস্থিতি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সঙ্কটকে আরো গভীর করতে পারে।