চট্টগ্রামে চীনা শিল্পাঞ্চল ঘিরে নতুন আশা, কর্মসংস্থান নিয়ে শঙ্কা

Printed Edition

আরফাত বিপ্লব চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের আনোয়ারার বৈরাগ এলাকার বাসিন্দা মো: ইউনুসের বয়স ২৪। বাড়ির পাশে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা কেইপিজেড। প্রতিদিন পাশের উপজেলা চন্দনাইশ ও পটিয়া থেকেও অনেক মানুষ সেখানে কাজ করতে আসেন, কাজ শেষে আবার বাড়ি ফেরেন। কিন্তু ইউনুস অনেক চেষ্টা করেও সেখানে চাকরি পাননি।

শেষ পর্যন্ত তাকে কাজ নিতে হয়েছে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকার একটি পোশাক কারখানায়। প্রতিদিন গ্রামে ফেরা সম্ভব হয় না বলে বায়েজিদেই ভাড়া বাসা নিয়েছেন তিনি। ইউনুস বলেন, ‘বাড়ির পাশে কেইপিজেডে চাকরি করতে পারলে পরিবারের সাথে থাকতে পারতাম। কিন্তু চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের এলাকার অনেকেই চাকরি খুঁজছে, পাচ্ছে না।’

ইউনুসের এই অভিজ্ঞতার মধ্যেই আনোয়ারাবাসীর নতুন প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক ধরা পড়ে। কর্ণফুলী টানেল হয়েছে, কেইপিজেড আছে, এখন চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে নতুন আশার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন একটাই- নতুন শিল্পাঞ্চল হলে চাকরি কি সত্যিই তাদের ঘরে পৌঁছবে?

আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তার ভাষায়, প্রায় ১০ বছর ধরে আটকে থাকা প্রকল্পটি নতুন সরকারের সময়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি পেয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে। এতে চীনা বিনিয়োগের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এই প্রকল্প শুধু আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়। এটি চট্টগ্রামকে নতুন করে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের কেন্দ্র বানানোর একটি বড় পরীক্ষা। প্রধান সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলী টানেল, দক্ষিণ চট্টগ্রামের জমি, কক্সবাজার-মাতারবাড়ী ঘিরে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ এবং রফতানিমুখী শিল্পের অভিজ্ঞতা- সব মিলিয়ে আনোয়ারা এখন শিল্প বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে। কিন্তু সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কাগজের অনুমোদনের বাইরে যেতে হবে অবকাঠামো, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, সড়ক, শ্রমশক্তি ও দ্রুত সেবার নিশ্চয়তায়।

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে আনোয়ারায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর। সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সিইআইজেড কোং লিমিটেড নামে একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। কোম্পানিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের অংশীদারী ৩০ শতাংশ এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের অংশীদারী ৭০ শতাংশ। বেজার অংশীদারী নির্ধারণ করা হয়েছে প্রকল্প এলাকার অধিগ্রহণ করা জমির ৫০ বছরের লিজমূল্যকে মূলধন ধরে। অন্য দিকে চীনা প্রতিষ্ঠানটি নগদ মূলধন বিনিয়োগ করবে, যা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো, প্রশাসনিক ব্যয় ও অন্যান্য উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত হবে।

প্রকল্পটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হলেও বাস্তব অগ্রগতি ধীর ছিল। ২০১৪ সালে প্রথম সমঝোতার পর ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। শুরুতে অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব দেয়ার কথা ছিল চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে। কিন্তু তাদের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। পরে ২০২২ সালে চীনা সরকারের পক্ষ থেকে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর বেজা ও সিআরবিসি যৌথভাবে কোম্পানি গঠন করে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এত দিন মূল বাধা ছিল চুক্তি, মালিকানা, ডেভেলপার নির্বাচন ও অগ্রাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা। বেজার নির্বাহী সদস্য মো: নজরুল ইসলাম বলেছেন, আগে সরকারের অগ্রাধিকারে হয়তো এই জোন ছিল না। এখন নতুন সরকার কর্মসংস্থানের জন্য প্রকল্পটি এগিয়ে নিচ্ছে। কী ধরনের কারখানা হতে পারে। এ প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন, শতাধিক চীনা প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে চামড়া, হালকা প্রকৌশল, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিছু পোশাক কারখানা থাকলেও এটিকে পোশাককেন্দ্রিক করতে চায় না বেজা।

এই জায়গাটিই প্রকল্পটিকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের রফতানি এখনো তৈরী পোশাকনির্ভর। কিন্তু আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল যদি হালকা প্রকৌশল, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, চামড়াজাত পণ্য, খেলাধুলার সামগ্রী ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী শিল্প আনতে পারে, তাহলে এটি রফতানি বৈচিত্র্যকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। চীনা বিনিয়োগকারীদের উৎপাদন অভিজ্ঞতা, সরবরাহ চেইন ও আন্তর্জাতিক বাজারসংযোগ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, আনোয়ারার প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বেইজিংয়ে বড় বিনিয়োগ ফোরামে অংশগ্রহণ এবং দালিয়ানে চীনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও প্রকল্পটি নিয়ে আশাবাদী। চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেছেন, আনোয়ারাবাসীর জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কর্ণফুলী টানেলের পর এই প্রকল্প আনোয়ারার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে। তবে তিনি একই সাথে বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের কোনো সমস্যা যেন না হয় এবং জমি অধিগ্রহণের সঠিক ক্ষতিপূরণ যেন সবাই সময়মতো পান, তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে।

কিন্তু বিনিয়োগের এই সম্ভাবনার সামনে কয়েকটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ আছে।

প্রথমত. চট্টগ্রামে শিল্প গ্যাসের সঙ্কট দীর্ঘদিনের। উদ্যোক্তারা বলছেন, বন্দর, সড়ক ও বাজারের সুবিধা থাকলেও পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে বড় শিল্প স্থাপন কঠিন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বিভাগে নিবন্ধিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪১২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ছিল ৩ হাজার ৪৫০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রামে নিবন্ধিত বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এই পতনের পেছনে গ্যাস সঙ্কট, উচ্চ ব্যাংক সুদ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন।

দ্বিতীয়ত. প্রকল্পটি চালু করতে নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। বেজার সূত্র বলছে, এই জোনে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ, সড়ক, সেতু ও আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য ২০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ১২ মিটার প্রশস্ত সড়ক, ১২ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর, ১ হাজার ২০০ মিটার দীর্ঘ জেটি, ২ কিলোমিটার গ্যাস লাইন, পানি সংরক্ষণাগার ও ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। অর্থাৎ প্রকল্পের সাফল্য শুধু বিদেশী কোম্পানির আগ্রহের ওপর নির্ভর করছে না; নির্ভর করছে বাংলাদেশ কত দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে পারে, তার ওপরও।

তৃতীয়ত. বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব বিনিয়োগের মধ্যে ব্যবধান কমানো জরুরি। বাংলাদেশে চীনকে দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সতর্ক সঙ্কেত দিচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে প্রায় ৮৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরে যেখানে চীনা বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল প্রায় ৫ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা, সেখানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৬২০ কোটি টাকায়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে চীন থেকে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা নেমে আসে ২৭৬ মিলিয়ন ডলারে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীন থেকে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

এই প্রেক্ষাপটে আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল হতে পারে আস্থা ফেরানোর একটি পরীক্ষা। যদি দ্রুত জমি, চুক্তি, সেবা, অবকাঠামো ও অনুমোদন-প্রক্রিয়া শেষ করা যায়, তবে অন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছেও এটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। আর যদি প্রকল্পটি আবার প্রশাসনিক জটিলতা, গ্যাস সঙ্কট বা ধীর বাস্তবায়নে আটকে যায়, তবে প্রতিশ্রুত বিনিয়োগও বিলম্বিত হতে পারে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান প্রকল্প অনুমোদনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তার সতর্কতা হলো, শুধু অনুমোদনই যথেষ্ট নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা না গেলে কাক্সিক্ষত বৈদেশিক বিনিয়োগ আনা কঠিন হবে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহা: খোরশেদ আলম বলেছেন, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি হলে দেশে চীনা বিনিয়োগে পোশাক, মোবাইল, জুতা, ইলেকট্রিক ও খেলাধুলার সামগ্রীর অনেক কারখানা হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, এখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ দিতে গেলে সরকারের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এ দিকে আনোয়ারার মানুষের জন্য এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কর্মসংস্থান। শিল্পাঞ্চল হলে শুধু বড় কারখানাই আসে না; আসে পরিবহন, খাদ্য, বাসস্থান, মেরামত, নিরাপত্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় সেবার নতুন বাজার। কর্ণফুলী ও আনোয়ারা এলাকায় কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের অভিজ্ঞতা স্থানীয় মানুষকে এই সম্ভাবনা দেখিয়েছে। ২ হাজার ৪৯২ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা কেইপিজেডে বর্তমানে ৪৮টি শিল্পকারখানা আছে। জুতা, পোশাক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে রফতানি আয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। সেখানে এখন প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছেন, যাদের বড় অংশ নারী। নতুন বিনিয়োগ ও চলমান প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে কর্মসংস্থান ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় তরুণদের অভিজ্ঞতা বলছে, শিল্পাঞ্চল থাকলেই স্থানীয়দের চাকরি নিশ্চিত হয় না। বৈরাগের ইউনুসের মতো অনেকে কেইপিজেডে কাজের চেষ্টা করেও পাননি। তাদের কেউ কেউ চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে চাকরি করছেন, কেউ এখনো বেকার। ফলে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা শুধু কারখানা নির্মাণ নয়; তাদের দাবি, নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার যেন নীতিগতভাবে নিশ্চিত করা হয়।

ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য ও বৈরাগের বাসিন্দা মো: রাসেল বলেন, চায়না ইকোনমিক জোন চালু হলে সেখানে স্থানীয়দের চাকরির ব্যবস্থা থাকতে হবে। কারণ, এই এলাকার মানুষই প্রকল্পের জন্য জমি ছেড়েছেন। তাদের অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। রাসেলের ভাষায়, ‘এখানে চাকরি হলে এলাকার উন্নয়ন হবে, মানুষের দুঃখ-কষ্ট কমবে। বাড়ির পাশে কাজ করতে পারলে এলাকার মানুষের জমি দেয়া সার্থক হবে।’

কেইপিজেডের উদাহরণ আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্যও একটি বাস্তব শিক্ষা। শুধু জমি বরাদ্দ বা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ যথেষ্ট নয়; প্রকল্পকে জীবন্ত করতে হয় কারখানা, শ্রমিক, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সংযোগ ও বাজারের মাধ্যমে। কেইপিজেড সবুজায়ন, জলাধার সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও সামনে এনেছে। তাই আনোয়ারার নতুন চীনা শিল্পাঞ্চলেও শুরু থেকেই পরিবেশ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় জীবিকার প্রশ্ন গুরুত্ব পাওয়া দরকার।

আনোয়ারার ইউনুস ও রাসেলদের কাছে বড় কূটনৈতিক ঘোষণা, সমঝোতা স্মারক বা বিনিয়োগ ফোরামের ভাষণ খুব দূরের বিষয়। তাদের কাছে অর্থনৈতিক অঞ্চল মানে ঘরের কাছের কাজ, পরিবারের আয়, স্থানীয় বাজারে নতুন প্রাণ, আর জমি দেয়া মানুষের ন্যায্য হিসাব। চীনা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তব কারখানা ও স্থানীয় কর্মসংস্থানে রূপ নেয়, তবে আনোয়ারার অপেক্ষা বদলে যেতে পারে সুযোগে। আর সেই সুযোগ বাস্তব করতে এখন দরকার দ্রুত কাজ, নির্ভরযোগ্য সেবা, স্বচ্ছ চুক্তি এবং স্থানীয় মানুষের অগ্রাধিকার।