মালয়েশিয়ায় চাচাকে হত্যার দায়ে বাংলাদেশীর সাজা বহাল

Printed Edition

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

মালয়েশিয়ায় ঝগড়ার জেরে আপন চাচাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে দণ্ডিত এক বাংলাদেশী নাগরিকের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির উচ্চ আদালত। এর ফলে কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত ১৫ বছরের কারাদণ্ড বহাল থাকল। দণ্ডিত ব্যক্তির নাম আল আমিন (৪১)।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল কুয়ালালামপুরের সেন্টুলের জালান ইপো এলাকার একটি সেলুনের পেছনের অংশে আল আমিন ও তার চাচা ইসলাম মাহাবুল (যিনি তার রুমমেটও ছিলেন) রাতের খাবারের জন্য পেঁয়াজ কাটছিলেন। পেঁয়াজ কাটার সময় আল আমিনকে উদ্দেশ করে তার চাচার করা কিছু মন্তব্যের জেরে দু’জনের মধ্যে তীব্র বাগি¦তণ্ডা শুরু হয়।

আল আমিনের ভাষ্যমতে, তার চাচা প্রথমে তাকে একটি রঙের খালি কৌটা দিয়ে ঢিল মারেন এবং পরে ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আল আমিনের হাতে থাকা পেঁয়াজ কাটার ছুরিটি চাচার বুকে ঢুকে যায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ওই রাতেই পুলিশ আল আমিনকে গ্রেফতার করে।

আইনিপ্রক্রিয়া ও রায় প্রাথমিকভাবে আল আমিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে পরে প্রসিকিউশন তার আবেদন গ্রহণ করে অভিযোগটি পরিবর্তন করে ৩০৪(এ) ধারায় (অসাবধানতাবশত মৃত্যু ঘটানো) নিয়ে আসে। এই ধারায় আল আমিন নিজের দোষ স্বীকার করেন।

সাজা কমানোর আরজিতে আল আমিন আদালতে জানান, তিনি দুই সন্তানের বাবা এবং পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য তার সাজার মেয়াদ কমানো প্রয়োজন। তিনি আরো দাবি করেন, হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।

আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ বিচারপতি দাতুক আহমদ জাইদি ইব্রাহিম, দাতুক মোহামেদ জাইনি মাজলান এবং দাতুক নুরিন বদরুদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ আল আমিনের আবেদনটি খারিজ করে দেন। বিচারপতি জাইনি তার রায়ে উল্লেখ করেন-

‘সাধারণত এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ ১৮ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। সেই তুলনায় হাইকোর্টের দেয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ড মোটেও অত্যধিক নয়, বরং কিছুটা কম। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তাতে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ আমরা দেখছি না।’

আদালত আরো জানান যে, আল আমিনের পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হলেও একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ, যার জন্য এই সাজা যথাযথ ও আনুপাতিক। ফলে আল আমিনকে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকেই এই ১৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।