কিডনি প্রতিস্থাপনের রোগীটি সুস্থ শিগগিরই বাড়ি ফিরতে পারবেন
Printed Edition
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) প্রতিস্থাপিত কিডনি রোগীটি সুস্থ হয়ে বাড়ি যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ৪৪ বছরের বড় ভাই সুমন মিয়াকে ৩৫ বছরের ছোট ভাই আবুল বাশারের দান করা কিডনিটি ধীরে ধীরে কার্যকর হতে শুরু করছে বলে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি এবং নেফ্রলজি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বিভাগের সমন্বয়ে এটা ছিল ৬০৮তম কিডনি প্রতিস্থাপন। গত ১৭ মার্চ এই কিডনি প্রতিস্থাপন কাজটি সম্পন্ন হয়।
কিডনি প্রতিস্থাপনের সাথে জড়িত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতিস্থাপনের পর পরই কিডনি-গ্রহীতার দেহ নতুন কিডনিটি ভালোভাবেই গ্রহণ করে, কোনো সমস্যা হয়নি। অপারেশনের টেবিল থেকে বের করে পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত বেশ ইতিবাচক সাড়া দেয় গ্রহীতার দেহ। ক্রিয়েটিনিন বেশ স্বাভাবিক (১.৩) ছিল বলে জানা গেছে। একজন সুস্থ মানুষের ক্রিয়েটিনিন যে রকম থাকে কিডনি-গ্রহীতা বড় ভাইয়ের দেহে ক্রিয়েটিনিন ঠিক সে রকমই ছিল। কিন্তু তিন দিন পরই হঠাৎ কিডনি-গ্রহীতা বড় ভাইয়ের দেহে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে বিপজ্জনক মাত্রায় চলে আসে, প্রস্রাবের পরিমাণও কমতে কমতে এক সময় বিপজ্জনক মাত্রায় চলে আসে। ফলে রোগীকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয়েছিল। ডায়ালাইসিস করানোর আগে কিডনিগ্রহীতা সুমন মিয়ার সারা দিনে প্রস্রাব নেমে আসে ৪০ মিলিমিটারে, এটা ছিল বিপজ্জনক মাত্রা। সার্জনরা নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, ডায়ালাইসিস করানোর আগে প্রতিস্থাপিত কিডনিটির বায়োপসি করানো হয়। বায়োপসির অফিসিয়াল রিপোর্ট সাথে সাথে না পেলেও নেফ্রলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: এ এইচ হামিদ আহমেদ নয়া দিগন্তকে গত ২৩ মার্চ জানান, বায়োপসি রিপোর্টে নেতিবাচক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, রোগীটিকে সুস্থ করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি ও নেফ্রলজি বিভাগের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ঈদের ছুটির দিনও পালা করে সিনিয়র চিকিৎসকরা গ্রহীতা সুমন মিয়াকে দেখতে এসেছেন এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। গত ৩ এপ্রিল এ ব্যাপারে নেফ্রলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা: নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, ‘কিডনি-গ্রহীতা সুমন মিয়া এখন ভালো আছেন, ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।’ এ ব্যাপারে কিডনি প্রতিস্থাপন সার্জন টিমের (গ্রহীতা পক্ষ) সদস্য ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: মো: রফিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর জানান, ‘সুমন মিয়ার ক্রিয়েটিনিন ২ এমজি/ডিএল পর্যন্ত নেমেছে। গতকাল সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৩ লিটার ৮০০ মিলিলিটার প্রস্রাব হয়েছে। প্রস্রাবের পরিমাণ বেশ ভালো, আর কোনো জটিলতা না থাকলে প্রস্রাবের পরিমাণ আরো বাড়তে থাকবে, একই সাথে ক্রিয়েটিনিনও স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসবে। ইতোমধ্যে প্রস্রাবের থলির সাথে লাগানো ক্যাথেটার খুলে দেয়া হয়েছে, ডায়ালাইসিস করারও প্রয়োজন হচ্ছে না।’ রোগীর রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে, তাপমাত্রাও স্বাভাবিক। ডা: রফিকুল ইসলাম আরো জানান, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পেটের যে অংশে কাটা হয়েছিল সেই কাটা স্থানটি শুকিয়ে গেছে। সে কারণে সেখানকার সেলাইও কেটে দেয়া হয়েছে।’
চিকিৎসকরা আশা করছেন, আর কোনো জটিলতা না থাকলে খুব শিগগিরই সুমন মিয়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন। অন্যদিকে কিডনিদাতা ছোট ভাই আবুল বাশারও সুস্থ আছেন। ৫ আগস্টের পর মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা দ্বিতীয় কিডনি প্রতিস্থাপন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তাহে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়ে আসছিল। মাঝখানে গ্রহীতা সার্জন না থাকায় অনেক দিন বন্ধ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে নিয়মিত কিডনি প্রতিস্থাপন হবে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। এর বাইরে ওষুধ ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। এটাই বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সর্বনি¤œ ফি।