আধুনিক কেরানীগঞ্জ গড়ার রূপরেখা ঘোষণা অধ্যক্ষ শাহিনুরের

Printed Edition
bangla-4
ঢাকা-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইশতেহার ঘোষণা করেন : নয়া দিগন্ত

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নত অবকাঠামো, সুশাসন, শিল্পায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল সেবায় সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা ঘোষণা করেছেন ঢাকা-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার রাতে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা জনি টাওয়ারের হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি ‘আধুনিক কেরানীগঞ্জ রূপকল্প’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।

ইশতেহারে বলা হয়, কেরানীগঞ্জকে প্রথম শ্রেণীর আদর্শ পৌরসভায় উন্নীত করতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হবে। পরিবেশ ও টেকসই নগর উন্নয়নের অংশ হিসেবে জলাবদ্ধতা নিরসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। শুভাঢ্যা খালসহ দখলকৃত সব খাল ও প্রাকৃতিক জলাধার উদ্ধার ও পুনঃখনন করা হবে এবং দু’পাশ আধুনিক নকশায় বাঁধাই করে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। একই সাথে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন এবং ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ নীতিতে আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ‘সবুজ কেরানীগঞ্জ’ প্রকল্পের আওতায় সড়কের দু’পাশ, নদীতীর, সরকারি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এলাকাটিকে ‘গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়।

উন্নত যোগাযোগ ও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদের ঘোষণা দেয়া হয়। যত্রতত্র গড়ে ওঠা ট্রাক ও সিএনজি স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করে পরিকল্পিত স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হবে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সাথে সংযোগকারী অভ্যন্তরীণ সড়ক প্রশস্তকরণ, নতুন ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস নির্মাণ এবং কদমতলী-তেঘরিয়া ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীপথের ঘাট আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের বাস ও ট্রাক টার্মিনাল স্থাপনের কথা বলেন তিনি।

সুশাসন ও নিরাপত্তার বিষয়ে কেরানীগঞ্জকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করে মাদক উৎপাদন, সরবরাহ ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার অঙ্গীকার করা হয়। ভূমি অফিসের দুর্নীতি বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন ও ডিজিটাল ভূমি সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ, ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় বিশেষ ইউনিট এবং পাড়া-মহল্লাভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশিং চালুর ঘোষণা দেয়া হয়।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী পোশাক শিল্প আধুনিকীকরণে ভর্তুকি, সহজ ঋণ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা, আগানগরে শিল্প পুলিশ থানা স্থাপন এবং পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকরের কথা বলা হয়। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ‘কেরানীগঞ্জ এসএমই মার্কেট’ ও কোন্ডা ইউনিয়নে পরিকল্পিত শিল্পপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার ইশতেহারে।

ইশতেহারে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ২৫০ শয্যার আধুনিক সরকারি হাসপাতাল ও একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম, লাইব্রেরি ও বিজ্ঞানাগার স্থাপন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর ঘোষণা দেয়া হয়। ডিজিটাল সেবার অংশ হিসেবে ভূমি নামজারি, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ সব নাগরিক সেবা হয়রানিমুক্ত ও অনলাইনে দেয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।