দুদকের মামলায় এ বি এম খায়রুল হকের জামিন

৫ আসনের ব্যালট ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

গতকাল বুধবার বিচারপতি শেখ মো: জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো: জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

এ দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-১৩, গাইবান্ধা-৫, ঢাকা-৫, পাবনা-৩ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিট ও অন্যান্য নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার অভিযোগটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে বিচারপতি মো: জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত বছরের আগস্টে বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। ওই মামলায় খায়রুল হকসহ আটজনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো: নুরুল হুদা, সাবেক সদস্য (অর্থ) ও সদস্য (এস্টেট) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সদস্য (অর্থ) মো: আবু বক্কার সিকদার, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মো: আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সাবেক সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক যুগ্মসচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম ও সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।

এর আগে গত ৪ মার্চ জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা চার মামলায়ও খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো: খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো: সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এ মামলার বাইরে তার বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি মামলা রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। একই অভিযোগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী ভুঁইয়া। একই দিনে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা।

এ ছাড়া প্লট জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে এর আগে দুদকও একটি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।

৫ আসনের ব্যালট ও রেজাল্ট শিট সংরক্ষণের নির্দেশ

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ঢাকা-১৩ আসনের খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, গাইবান্ধা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো: ফারুক আলম সরকার, ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো: নবী উল্লাহ, পাবনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো: হাসান জাফির তুহিন এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী।

জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ২৫টির বেশি আসনের প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে করা আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো: জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।

হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় উল্লেখ রয়েছে, ২০০১ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচনী আবেদনপত্র, এ-সংক্রান্ত রুল ও আবেদন গ্রহণ এবং শুনানির এখতিয়ার এই বেঞ্চের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।