মেলানিয়া সিনেমার নতুন রেকর্ড

Printed Edition
bino-5
মেলানিয়া সিনেমার নতুন রেকর্ড

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জোরালো প্রচারণায় থাকা মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবননির্ভর ডকুমেন্টারি ‘মেলানিয়া’ বক্স অফিসে অভাবনীয় এক রেকর্ড গড়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিসরে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি সব জল্পনা-কল্পনা ছাপিয়ে আয়ের দিক থেকে ইতিহাস গড়েছে। স্টুডিওর হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম উইকেন্ডেই এটি প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সাধারণত রাজনৈতিক ডকুমেন্টারিগুলোতে এমন সাফল্য দেখা যায় না; গত ১৪ বছরের মধ্যে কনসার্ট ফিল্ম বাদে এটিই কোনো ডকুমেন্টারির সেরা ওপেনিং রেকর্ড। অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস ছবিটির স্বত্ব ও বাজারজাতকরণে মোট ৭৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যা একে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডকুমেন্টারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিতর্কিত পরিচালক ব্রেট র‌্যাটনারের পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মূলত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিষেকের ঠিক আগের ২০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ এবং মেলানিয়ার ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি।

তবে এই বাণিজ্যিক সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। একদিকে সমালোচকরা এই চলচ্চিত্রটিকে ‘রাজার প্রতি অতিভক্তি’ বা ‘চাটুকারিতা’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন, অন্যদিকে সাধারণ দর্শকরা একে সাদরে গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের মতো দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে বয়োজ্যেষ্ঠ নারী দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। সিনেমাটি দর্শকদের ভোটে ‘এ’ সিনেমাস্কোর অর্জন করেছে, যা এর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। বিশ্লেষক ডেভিড এ. গ্রস মনে করেন, অ্যামাজনের এই বিশাল বিনিয়োগ শুধু ব্যবসার জন্য নয়; বরং ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং শুল্ক বা নীতিগত সুবিধা পাওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলও হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কিছু জটিলতা এবং সমালোচকদের নেতিবাচক রিভিউ সত্ত্বেও, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমর্থন এবং রাজনৈতিক উন্মাদনা ‘মেলানিয়া’কে বক্স অফিসের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।