প্রতিবাদে তাফসির ও সমাবেশ

জাবির ‘হিম উৎসবে’ সূরা নাসকে বিকৃত করে উপস্থাপন

Printed Edition
3rd-2
জাবিতে কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাবের প্রতিবাদ সমাবেশ : নয়া দিগন্ত

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হিম উৎসবে’ বাউল শিল্পী কর্তৃক পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাসের বিকৃত ব্যাখ্যা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিবাদে তাফসির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ ক্লাব’ এই প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করে।

ওয়ালি উল্লাহ আল মাহাদীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে সাভার বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের খতিব শায়েখ ইয়াহিয়া ত্বকী বলেন, ‘সূরা ফালাক ও সূরা নাস কুরআনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষার মাধ্যম। কিন্তু হিম উৎসবে যেভাবে এই সূরার অপব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, তা স্পষ্টত কুরআন অবমাননার শামিল।’ তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানালেও একদল শিক্ষার্থী মব পরিস্থিতি তৈরি করে ওই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছে।

দাওয়াতুল হক একাডেমির পরিচালক মাওলানা আকরাম বলেন, সূরা আন-নাস আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া। একে নিয়ে কটাক্ষ ও ভুল তিলাওয়াত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ছবি চত্বরে’ আয়োজিত হিম উৎসবে পালাগান চলাকালে এক বাউল শিল্পী সূরা নাসের একটি আয়াতের বিকৃত ব্যাখ্যা দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি অসম্পূর্ণ আয়াত পাঠ করে মন্তব্য করেন- ‘পুরা সূরাজুড়েই নাচতে বলা হয়েছে, যত নাচবি তত বাঁচবি।’ এর পর তিনি দর্শকদের নাচের আহ্বান জানিয়ে গান শুরু করেন। এ সময় দুই শিক্ষার্থী মঞ্চে উঠে প্রতিবাদ জানালে শিল্পী তাৎক্ষণিক ক্ষমা চান। তবে অভিযোগ উঠেছে, আয়োজকরা পরে পুনরায় অনুষ্ঠান শুরু করেন এবং প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের ঘেরাও করে ‘মব’ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা দিবাগত রাত ২টার দিকে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বিষয়টি মূলত তাদের নৈতিক অবস্থান থেকে ছিল এবং প্রক্টোরিয়াল বডি পরিস্থিতি শান্ত করেছে।