কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬৬

Printed Edition

সিএনএন

কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছে। কলম্বিয়া বিমান বাহিনীর সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরো বহু মানুষ। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এক্স এ জানিয়েছেন, পেরুর সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লেগুইসামো থেকে উড্ডয়নের সময় মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিনের তৈরি হারকিউলিস সি-১৩০ পরিবহন বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

পুয়ের্তো লেগুইসামো কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় আমাজন অঞ্চলের প্রদেশ পুতুমায়োর প্রত্যন্ত এলাকার একটি ছোট শহর। কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর দুই সূত্র রয়টার্সকে জানান, সোমবার দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যার মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ৬৬ জনে দাঁড়ায়।

বিমানটি পুয়ের্তো লেগুইসামোর কাউকাইয়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তারপর উড়তে থাকা অবস্থায়ই ধারবাহিকভাবে উচ্চতা হারাতে থাকে। পরবর্তীতে বিমানটি দ্রুত নিচে পড়ার সময় এর একটি ডানা গাছের সাথে ধাক্কা খায়।

বিধ্বস্ত হওয়ার সাথে সাথেই বিমানটি আগুন ধরে যায় আর এতে ভেতরে থাকা বোমা বিস্ফোরিত হতে শুরু করে, জানিয়েছেন দমকল কর্মী এদুয়ার্দো সান হুয়ান। প্রত্যন্ত ওই এলাকাটির বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করে, তারা জীবিতদের সরিয়ে নিয়ে আসা শুরু করে। ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় কিছু মানুষ তাদের মোটরসাইকেলের পেছনে আহত সেনাদের নিয়ে দ্রুতগতিতে একটি কাঁচা রাস্তা দিয়ে ছুটে যাচ্ছেন।

পরে সামরিক বাহিনীর গাড়ি সেখানে হাজির হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন আর তাতে উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কলম্বিয়ার বিমানবাহিনী প্রথমিকভাবে জানিয়েছিল, পরিবহন বিমানটিতে মোট ১২১ জন আরোহী ছিল, তাদের মধ্যে ১১০ জন সেনা ও বাকি ১১ জন ক্রু সদস্য। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেজ জানিয়েছেন, কী কারণে বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়েছে তা নির্ধারণ করা যায়নি। কোনো অপরাধী গোষ্ঠীর হামলারও কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মেয়াদের শেষ দিকে থাকা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সোমবার সামরিক বাহিনীকে আধুনিকায়ন করার তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেরি করার জন্য আমলাতন্ত্রিক বাধার সমালোচনা করেছেন। এক্স এ এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘আমি আর কোনো বিলম্ব মঞ্জুর করবো না। আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকিতে আছে। যদি বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত না থাকেন তাদের অবশ্যই সরে যেতে হবে।’

কলম্বিয়ার আসন্ন ৩১ মে-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বেশ কয়েকজন প্রার্থী এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। লকহিড মার্টিন কোম্পানির মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করবে তারা।