গাজায় গণহত্যা : বিক্ষোভে উত্তাল দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
1st-1
ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় (বাঁয়ে); বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল : নয়া দিগন্ত

ফিলিস্তিনের গাজায় ইহুদি জায়নবাদী ইসরাইলি সরকারের নৃশংসতা ও গণহত্যার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। নিপীড়িত গাজাবাসীর আহ্বানে ‘গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা’ নামে বিশ্বব্যাপী ধর্মঘটের প্রতি সংহতি জানিয়ে মিছিল-সে্লাগান, সমাবেশে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রেখে সড়কে নেমে মিছিল ও সমাবেশ করে। এ ছাড়া অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচি থেকে আয়োজক সংগঠনের বক্তারা গাজা উপত্যকায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানান। এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গতকাল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মোড়ে পুলিশসহ সেনাবাহিনীকে অবস্থান এবং টহল দিতে দেখা যায়। আজও বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম : ফিলিস্তিন দখলকারী ও গণহত্যাকারী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক জিহাদ এখন ফরজ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ইসরাইল শুধু একটি অবৈধ রাষ্ট্রই নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি ক্যান্সার। এই ক্যান্সারকে সমূলে উৎখাত করতে হবে। পল্টন জোনের সভাপতি মুফতি সালাউদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর পরিচালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মনির হোসাইন কাসেমী প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জনমত গড়ে তোলা এবং মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

হেফাজত ঢাকা জেলা উত্তর : হেফাজতে ইসলাম ঢাকা জেলা উত্তরের উদ্যোগে বাদ আসর এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সাভার মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি সাভার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অগ্রসর হয়। মিছিল শেষে সংহতি সমাবেশে ঢাকা জেলা উত্তর হেফাজতের সেক্রেটারি মাওলানা আলী আযমের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন মাওলানা মাহফুয হায়দার কাসেমী। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এবং আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব শাইখুল হাদীস মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, গাজায় ইসরাইল যে নারকীয় গণহত্যা চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেক আজ নিঃশব্দ। এই নীরবতা ভাঙতে হবে আমাদেরই। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে লিখিত আপত্তি প্রস্তাব উত্থাপন করুন। পাশাপাশি আগের মতো পাসপোর্টে ইসরাইলের বর্জননীতি পুনর্বহাল ও বাংলাদেশে ইসরাইলি পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করুন।

খেলাফত মজলিস : খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ফিলিস্তিনের মানুষের আজ ঈদ নাই। ঈদের আনন্দকে বর্বর ইসরাইল বোমা মেরে কেড়ে নিয়েছে। নারী-শিশুদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সহযোগীতায় ইসরাইল আরো উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। যুদ্ধাপরাধী ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তার বাহিনীকে যেকোনো মূল্যে শায়েস্তা করতে হবে, পরাভূত করতে হবে। আজকে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

গতকাল খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে গাজার প্রতি বৈশ্বিক সংহতির অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হকের সভাপতিত্বে ও সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী আরিফুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তৃতা করেন, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল, ঢাকা মহানগরী উত্তর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক প্রমুখ। এ ছাড়াও খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তর, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী, সিলেট মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন শাখায় সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

খেলাফত আন্দোলন : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, দল-মত নির্বিশেষে ফিলিস্তিনি মজলুম মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানো ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব। গতকাল বাদ জোহর কামরাঙ্গীরচর নুরিয়া মাদরাসা থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে লোহার ব্রিজ সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, জামিয়া নুরিয়ার প্রধান মুফতি মাওলানা মুজিবুর রহমান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন কামরাঙ্গীরচরের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম খতিব, মুসল্লিসহ অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের বিক্ষোভ : বিশ্বব্যাপী মজলুম গাজাবাসীদের আহূত হরতালের সমর্থনে ঢাকার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে স্মরণকালের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিল পূর্ব জমায়েত সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তৃতা করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করীম আবরার প্রমুখ। মিছিল থেকে ইসরাইলের নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবির ওপর জনতার রুদ্ররোষ সৃষ্টি হলে ছবিতে জুতাপেটা ও আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ করে। সমাবেশ বিশাল মিছিল বের হয়ে বায়তুল মোকাররম পল্টন, প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, টিএসসি হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।

ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তর : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেছেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধে জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর-১০ গোল চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, মুফতি মো: মাছউদুর রহমান প্রমুখ। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল-১০ নম্বর গোল চত্বর থেকে ছয় নম্বর হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিরপুর-১ নম্বর এ এসে সমাপ্ত হয়।

লেবার পার্টি : জায়নবাদী ইসরাইল বিশ্ব মানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম মানবতা বিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে রমজান মাসেও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে বোমা হামলা করে শত শত মানুষ, নারী ও শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।

গতকাল বায়তুল মোকারম উত্তর গেটে বাংলাদেশ লেবার পার্টি উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী গাজায় গণহত্যা বন্ধের সংহতি কর্মসূচির সমর্থনে আয়োজিত “গাজায় গনহত্যা বন্ধ করার দাবিতে সংহতি সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি তরিকুল ইসলাম সাদি প্রমুখ।

মিরপুরের ইমাম-উলামাদের সমাবেশ ও মিছিল : নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বৃহত্তর মিরপুরের ইমাম-উলামাদের নেতৃত্বে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিরপুর ১ নম্বর গোল চত্বরে মাওলানা গাজী ইয়াকুবের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে সভাপতিত্ব করেন আরজাবাদের মুহতামিম এবং ইত্তেফাকুল মাদারিস বৃহত্তর মিরপুরের সভাপতি মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারকে পাসপোর্টে ‘এক্সেপ্ট ইসরাইল’ ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয়ভাবে মজলুম ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন, জামিয়া ইসলামিয়া মাযহারুল উলুমের মুহতামিম ও ইত্তেফাকের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন ঢাকুবী, মাওলানা আখতারুজ্জামান কাসেমী, মাওলানা আব্দুস সালাম প্রমুখ।

মানিক মিয়া এভিনিউতে জনতার বিক্ষোভ : ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের নির্মম হামলার প্রতিবাদ ও গাজাবাসীর ডাকা হরতালের সমর্থনে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ওই এলাকার চার দিকে বিক্ষোভকারীদের ঢল নামে। সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন ফটোকার্ড ও ব্যানার নিয়ে মিছিল নিয়ে সমবেত হয়েছেন শত শত মানুষ। ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশ শেষে বিকেল ৫টার দিকে একটি প্রতিবাদী মিছিল বের করে মানিক এভিনিউ সড়কে প্রদক্ষিণ করে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : ইসরাইলের চলমান গণহত্যার প্রতিবাদ ও ‘ দ্য ওয়ার্ল্ড স্টপ ফর গাজা’ কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে গতকাল ক্লাস বর্জনের ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির সময় কোনো ক্লাস, ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট এমনকি কোনা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি তারা। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, ইউআইটিএস, ইউনিভার্সিটি অব প্যাসিফিক, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিসহ আরো কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও কর্মসূচি পালন করে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর বসিলা ব্রিজের ওপর স্থানীয় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। তারা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দিয়ে ওই এলাকা প্রকম্পিত করেছেন। নতুনবাজারে মার্কিন দূতাবাসের বিপরীত পাশের রাস্তায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন অনেক মানুষ। ‘ইসরাইলের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার’, ‘ইসরাইলের ঠিকানা এই দুনিয়ায় হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। আরো স্লোগান দেন ‘তুমি কে আমি কে, প্যালেস্টাইন প্যালেস্টাইন’, ‘ট্রাম্পের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’, ‘নেতানিয়াহুর দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’, ‘ইসরাইলের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে মেরুল বাড্ডায় বিক্ষোভ করছেন বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা।

উত্তরায় দুপুর ১২টায় উত্তরা রাজউক মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়, আইউবিএটি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা হাইস্কুল ও দুই মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ উত্তরার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাড়কের হাউজ বিল্ডিং-সংলগ্ন বিএনএস সেন্টারের সামনে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো যেসব দেশ এমন গণহত্যা দেখে নিশ্চুপ, তাদেরও বয়কট করতে হবে। পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলো কাপুরুষতার পরিচয় দিচ্ছে, যার জন্যই সুযোগ পাচ্ছে ইসরাইল। অবিলম্বে মুসলিম দেশগুলোকে এককাতারে এসে এই গণহত্যার প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে সায়েন্সল্যাব মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত সায়েন্সল্যাব এলাকায় তিনটি বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। প্রত্যেকটি মিছিল সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে শুরু হয়ে বাটা সিগন্যালে গিয়ে শেষ হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্টারটেকের কর্মীরা বিক্ষোভে অংশ নেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ঢাকা স্টেট কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। স্থানীয়রাও তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। বিক্ষোভ মিছিলে ঢাকা স্টেট কলেজের শিক্ষক আকতার হোসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে বলেন, “মুসলিম প্রধান দেশের নেতা হিসেবে ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ জানানো উচিত। ইসরাইল একটি অভিশপ্ত দেশ, যারা নিরীহ মুসলিমদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।’

বর্বরোচিত গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরাও। একই সাথে “তিতুমীর’স ভয়েস ফর ফিলিস্তিন” ব্যানারে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল আনটিল জেনোসাইড স্টপস’ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রথমে কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর মহাখালী-গুলশানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণের পর গুলশান এক নম্বর সার্কেলে ইসরাইলি পতাকায় আগুন দেয়। শিক্ষার্থীদের সাথে তিতুমীর কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের সাথে আশপাশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ যোগদান করে তাদের সমর্থন জানায়। বসুন্ধরা শপিংমলের সামনে থেকে কাওরানবাজার সার্ক ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত রাস্তার এক পাশ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আকিজ গ্রুপের সদস্যরা।

জাতীয় প্রেস ক্লাব : জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিভিন্ন দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। গতকাল সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে পৃথকভাবে এসব বিক্ষোভ সমাবেশ করে শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ, ইসলামী যুব মজলিস, গণশক্তি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ খেলাফতে যুব মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ছাত্র-শিক্ষকরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ফিলিস্তিনে শান্তি মিশনে পাঠানোর দাবি জানান। যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে সামরিক প্রশিক্ষক পাঠানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে তারা আরো বলেন, ইসরাইলকে যেসব রাষ্ট্র সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করছে, সেসব রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে হবে। তাদের সব ধরনের পণ্য বয়কট করতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা, ছাত্রসেনার কর্তৃক আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বলেন, আমরা চাই জাতিসঙ্ঘ আমাদের মুসলিম ভাই ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকতে হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফতে যুব মজলিস, ইসলামী যুব মজলিসের নেতারা সারা বিশ্বের মুসলমানদের একত্রিত হয়ে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের গাজায় গণহত্যা চালানোর তীব্র নিন্দা জানান।

গণশক্তি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন- নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, মানবতার এই বিপর্যয় থেকে ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করার জন্য আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করতে হবে। কারণ আমরা যদি প্রতিবাদ না করি তাহলে আমাদের মানবিক মূল্যবোধ প্রকাশ পাবে না। আমি বলতে চাই, এই প্রতিবাদ আমাদের সবার মধ্যে জাগ্রত হোক, সঞ্চারিত হোক।

৬ দফা দাবি আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের : ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের সদস্যসচিব আলামিন আটিয়া বলেন, এডলফ হিটলার দ্বারা বিতাড়িত ইহুদিদের নিয়ে ১৯৪৮ মুসলমানদের পবিত্র ভূমিকে নিজেদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আজ তারা প্যালেস্টাইনের নারী ও শিশুদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ভূমি খালি করে তা দখলে করে ইসরাইল রাষ্ট্রকে সম্প্রসারণের অপপ্রয়াসকে বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন বাংলাদেশ সরকারকে ছয় দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। দাবিগুলো হলো : ১.পাসপোর্টে ইসরাইলকে সন্ত্রাসী দেশ আখ্যায়িত করে পুনরায় ইসরাইল প্রবেশ নিষিদ্ধ চাওয়া। ২.ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের সকল পণ্যের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা।

৩. ইসরাইল ভ্রমণ আছে এমন ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা। ৪. মজলুম রাষ্ট্র ফিলিস্তিনের অনুদান পাঠানো সব পণ্যে শুল্ককরমুক্ত ঘোষণা।

৫. প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস স্যারের প্রতি একান্ত অনুরোধ, এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে বিশ্বনেতাদের নিয়ে ফিলিস্তিনে মহাসমাবেশ করা। ৬. ওআইসি, আরব লীগকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা করার আলোচনা তোলা ও জাতিসঙ্ঘে ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলার জন্য তাদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি তোলা।

মুসলিম নিপীড়নের আরেকটি পথ উন্মোচন করেছে ভারত সরকার : আখতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ভারতে ওয়াকফ সংশোধন বিল পাসের মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় ও দাতব্য সম্পত্তির অধিকার তাদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সেখানে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করার যে সিদ্ধান্ত ভারত সরকার গ্রহণ করেছে তা নিতান্তই বৈষম্যমূলক। এর মাধ্যমে ভারতের মুসলমানদের নিপীড়নের আরেকটি পথ তারা উন্মোচন করেছে ভারত সরকার।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত গাজায় ইজরাইলের আগ্রাসন ও ভারতের ওয়াকফ সংশোধনী বিল প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়াকফ বিল বিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশের সাথে সংহতি জানিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ভারতের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এনআরসি করে তাদের নাগরিকত্বহীন করে দেয়া হয়েছে। ভারতের মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, স্বকিয়তা নিয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের মসজিদ, মাদরাসা কবরস্থান এবং খানকাহগুলোতে যে ধর্মীয় সম্পত্তিগুলো আছে সেটার তত্ত্বাবধান মুসলমানরাই করবে এটাই ছিল নিয়ম। হিন্দুসহ অন্য যে ধর্মগুলো আছে তারা প্রত্যেকে তাদের দেবোত্তর সম্পত্তিগুলো নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদেরই আছে। কিন্তু মুসলমানদের সম্পত্তিগুলোর অধিকার তাদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে সেখানে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করার যে সিদ্ধান্ত ভারত সরকার গ্রহণ করেছে, আমরা বাংলাদেশীরা মনে করি, এটা নিতান্তই বৈষম্যমূলক। এর মাধ্যমে ভারতের মুসলমানদের নিপীড়নের আরেকটি পথ তারা উন্মোচন করেছে। ভারতের মুসলমানরা এবং গণতন্ত্রকামী শক্তিরা এই বিলের বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমরা সেসব বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রতি সংহতি ব্যক্ত করছি।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, শুধু ভারত নয়, বর্তমানে সব থেকে বেশি মানবতাবিরোধী কার্যক্রম ও ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হচ্ছে ফিলিস্তিনের মাটিতে। মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ইসরাইল, এখনো পর্যন্ত ঔপনিবেশবাদী মানসিকতা লালন করে একটি জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার পাঁয়তারা করছে। ইসরাইল মানবতাবিরোধী অপরাধের চূড়ান্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। সেখানকার নিরীহ মানুষের ওপর তারা বারবার আক্রমণ করছে, হত্যা করছে। তাদের কোনো অনুশোচনা আমরা এখনো পর্যন্ত দেখিনি। তারা সেখানকার বাড়িঘরে, স্কুল-কলেজে, হাসপাতালে, জাতিসঙ্ঘের শেল্টার হোমগুলোতে পর্যন্ত হামলা করেছে। ইসরাইলে এখন পর্যন্ত সাত দশকের যুদ্ধের পরে সব থেকে বেশি সাংবাদিককে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধে এত সাংবাদিক হত্যা করা হয়নি।

জবিতে বিক্ষোভ মিছিল

জবি সংবাদদাতা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জবি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু হয়ে এ মিছিল বাহাদুর শাহ পার্ক ঘুরে রফিক ভবনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন মিয়া বলেন, আমরা দেখছি সারা বিশ্বে মুসলিমরা নির্যাতিত। ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। এখন গাজার যে অবস্থা এ সময় জিহাদ ছাড়া উপায় নাই।

জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সংহতি সমাবেশ করেছি। আমাদের সরকারের প্রতি আহ্বান, বাংলাদেশ থেকে ইসরাইলি গণহত্যার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করতে হবে। আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করতে হবে ইসরাইলি সব পণ্য বর্জন করব।

হেফাজত মহাসচিব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ইসরাইলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমান। গতকাল বাদ জোহর মজলুম গাজাবাসীর আহ্বানে বিশ্বব্যাপী হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব চত্বরে সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান।

এ সময় তিনি বলেন, দ্রুত ইসরাইলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানাতে হবে। হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। ইসরাইলের গণহত্যাকে মানবতাবিরোধী কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। সমস্ত মানবের জন্য এই হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানানো জরুরি। এ সময় তিনি জিহাদের ডাক দিয়ে প্রয়োজনে ফিলিস্তিন গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেয়া আহ্বান জানান।

এ সময় হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

খুলনায় মিছিল সমাবেশ : খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা মহানগরীতে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্র আন্দোলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী শাখার মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় বাদ আসর নগরীর ডাকবাংলো মোড়ে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের মহানগরী আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। পরে একটি বিশাল মিছিল সেখান থেকে শুরু হয়ে ফেরিঘাট ঘুরে তারেরপুকুরে গিয়ে শেষ হয়। এতে দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের কয়রা উপজেলা শাখা কয়রা সদরে গতকাল মিছিল ও সমাবেশ করে বলে আমাদের কয়রা সংবাদদাতা জানান।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রথমে খুলনা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে এ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তৃতা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: রেজাউল করিম, প্রোভিসি প্রফেসর ড. মো: হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: নূরুন্নবী, প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান, প্রফেসর শরিফ মোহাম্মদ খান, প্রফেসর ড. মো: নাজমুস সাদাত হাসান মাহমুদ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বক্তৃতা করেন শানিল সরদার ও তামিম। পরে ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’ হাদী চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংহতি প্রকাশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ডিসিপ্লিনে গতকাল স্পেশাল টার্মের পরীক্ষা ছিল, তা স্থগিত করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর শিববাড়ি মোড়ে ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’ কর্মসূচির আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ কর্মসূচিতে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে। তারা সমাবেশ এবং পরে মিছিল করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পালন

ঢাবি প্রতিনিধি জানান, ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল আনটিল দ্য জেনোসাইড স্টপস’ কর্মসূচির সমর্থনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে হওয়া বিক্ষোভে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যার প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টার পর থেকে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর পরপরই ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বিক্ষোভ করে। সেখানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, ঢাকা নার্সিং কলেজ ও মাদরাসাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জড়ো হন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতাদের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই সাথে ফিলিস্তিনের পাশে সব মুসলিম রাষ্ট্রকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

৬ দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও এবং মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে মার্চ করবে আজাদ ফিলিস্তিন

গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা বিবৃতি, যুক্তরাষ্ট্রের হাইকমিশনারকে তলব করে জবাবদিহি চাওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম আজাদ ফিলিস্তিন। একই সাথে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা দাহ করাসহ মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে মার্চ করবে প্লাটফর্মটি। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় প্লাটফর্মটির সংগঠন ঢাবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে এই পদযাত্রা শুরু হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিকট প্লাটফর্মটির ছয় দফা দাবি হলো : ১. অনতিবিলম্বে মার্কিন মদদে গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানাতে হবে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ২. আমেরিকান হাইকমিশনারকে তলব করে গণহত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা করার জবাবদিহি চাইতে হবে। ৩. কালবিলম্ব না করে পাসপোর্টে পুনরায় ‘এক্সেপ্ট ইজরাইল’ কথাটি ফিরিয়ে আনতে হবে। ৫. ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার অর্থের জোগানদাতা সকল পণ্য ও সেবাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কট করতে হবে এবং তাদের দোসরদের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। ৬. ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ইসরাইল থেকে আড়িপাতার যন্ত্রসহ কেনা অন্য যেসব গোপন চুক্তি করেছে তা শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করতে হবে এবং ইসরাইলের মতো একই বর্বর কায়দায় গণহত্যা চালানোর দায়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে হবে।

ঢাবি সাদা দল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল নো ওয়ার্ক, নো স্কুল, আনটিল দ্য জেনোসাইড স্টপস কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়েছে।

সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান এবং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার গত রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, গাজায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন, দখলদারিত্ব এবং নির্মম গণহত্যা যেন গোটা বিশ্বের সচেতন মানুষকে বাকরুদ্ধ করে তুলেছে। ইসরাইলের খুনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রক্তপিপাসু নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন শুধু মানবিক দায়িত্ব নয় বরং এটি মুসলমান এবং মানুষ হিসেবে সকলের কর্তব্য।

ঢাবি সাদা দলের নেতারা বলেন, আমরা হয়তো সরাসরি গাজায় গিয়ে লড়তে পারছি না, কিন্তু নিজেদের দেশে একসাথে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে পারি। প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে এই কর্মসূচিকে সফল করুন। এ আন্দোলন হোক কোনো গোষ্ঠীর হয়ে নয়, মানবতার পক্ষে।

গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা বন্ধের দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন। একই সাথে জেরুসালেম ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বৈধ ও ন্যায্য বলেও জানান তারা।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এমন মন্তব্য করেন। মানববন্ধনে বুয়েটের শতাধিক শিক্ষার্থীর সাথে একাত্মতা পোষণ করে বুয়েটের শিক্ষকরাও মানববন্ধনে অংশ নেন।

বুয়েট শিক্ষার্থীরা বলেন, গাজায় নিরীহ শিশু, নারী এবং সাধারণ মানুষের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হচ্ছে, তা শুধু একটি রাজনৈতিক সঙ্কট নয়, এটি একটি চরম মানবিক ও নৈতিক সঙ্কট। আমরা, বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান অমানবিক সহিংসতা, নির্বিচারে হত্যা, বোমাবর্ষণ, রাসায়নিক হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এই সঙ্কট দীর্ঘায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাই ইসরাইলের পরিচালিত গণহত্যার এবং সেইসাথে নিন্দা জানাই তথাকথিত মানবতার ঝাণ্ডাধারী যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য পরাশক্তিদের যারা এই হত্যাযজ্ঞে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে আমরা গভীর হতাশা প্রকাশ করছি অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী আরব বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি, যারা এই নিষ্ঠুরতার সময়ে নিরবতা পালন করেছে। তাদের এই নিষ্ক্রিয়তা নিপীড়নকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করেছে। জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপের অভাব বিশ্বমানবতার জন্য হতাশাব্যঞ্জক।

উত্তাল চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে কেএফসি, পিৎজাহাট রেস্তোরাঁ এবং ‘কোকাকোলা’ সাইনবোর্ড সম্বলিত ভবনে ইট-পাটকেল ও জুতা নিক্ষেপ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও জনতা। এ ছাড়া চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় কোকাকোলার এজেন্ট ও বিক্রয় কেন্দ্রে হামলা করেছে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় তারা ইসরাইলি পণ্য বয়কটের ডাক দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকার বিপ্লব উদ্যানের সামনে থেকে ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে একাধিক মিছিল জিইসি মোড়ের দিকে রওনা হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। মিছিলটি নাসিরাবাদ অতিক্রম করে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সানমার ওশান সিটি শপিংমল সংলগ্ন কেএফসি ও পিৎজাহাট রেস্তোরাঁর সামনে থেমে যায়। একপর্যায়ে সেখান থেকে জুতা ও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। এতে উভয় রেস্তোরাঁর সামনের কাচ ভেঙে পড়ে। রেস্তোরাঁগুলোর ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরপর মিছিলটি জিইসি মোড় ঘুরে আবার দুই নম্বর গেটের দিকে গেলে পথিমধ্যে হোটেল জামান সংলগ্ন ভবনের ‘কোকাকোলা’র সাইনবোর্ড লক্ষ করেও ইট-পাটকেল ছোড়ে বিক্ষুব্ধরা। এতে ভবনের কাঁচও ভেঙে যায়।

ময়মনসিংহে বিক্ষোভ

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলিদের গণহত্যার প্রতিবাদে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে ময়মনসিংহের সর্বস্তরের জনগণ এবং স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর টাউনহল মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন হাজারো ছাত্র-জনতা। এ সময় ইসরাইলি বর্বরতার বিপক্ষে নানা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে নগরী। পরে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক জনতা অংশ নেন।

সিলেটে কেএফসি, বাটা ইউনিমার্টে হামলা

সিলেট ব্যুরো জানায়, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে উত্তাল সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল থেকে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান দাবি করে দিনভর নগরীর কেএফসি, বাটার শোরুম ও সুপারস্টোর ইউনিমার্টের আউটলেটে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

হামলার সময় বিক্ষোভকারীরা মন্তব্য করেন- ফিলিস্তিনিদের গণহত্যাকারী ইসরাইলি কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলার মাঠিতে ঠাঁই হবে না। কেএফসি রেস্টুরেন্টে ইসরাইলি কোমল পানীয় বিক্রি করা হচ্ছে। এটি মেনে নেয়া যায় না।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে নগরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে দলে দলে লোকজন মিছিল সহকারে মিরবক্সটুলা সড়কের পাশে অবস্থিত কেএফসি রেস্টুরেন্টের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। শহীদ মিনারে মিছিল নিয়ে আসার পথে রয়েলমার্ক ভবনের দ্বিতীয় তলায় রেস্টুরেন্টের সামনে পিকআপ ভ্যানে থাকা ইসরাইলি বিভিন্ন কোমল পানীয় নষ্ট করে ও পিকআপটি ভাঙচুর করে। এ ছাড়া কেএফসির বাইরে গ্লাসে ঢিল ছুড়ে তা ভেঙে ফেলা হয়।