মির্জাগঞ্জে শ্রীমন্ত নদীর ওপর সেতু ভেঙে ৪ বছর ধরে দুর্ভোগ
Printed Edition
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মহিষকাটা বাজারের পূর্ব পাশে শ্রীমন্ত নদীর ওপর মহিষকাটা-আন্দুয়া কলাগাছিয়া সংযোগ আয়রন সেতুটি ভেঙে পড়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেই। এতে উপজেলা শহরের সাথে নদীর পূর্বপাশের অন্তত ছয়টি গ্রামের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ২০০৩-০৪ অর্থবছরে শ্রীমন্ত নদীর ওপর প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ আয়রন সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। তবে ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে দু’টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় কলাগাছিয়া আছমতিয়া এন্তাজিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আইয়ুব আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং মাদরাসার কম্পিউটার অপারেটরসহ ১৪-১৫ জন গুরুতর আহত হন।
সরেজমিন দেখা গেছে, মহিষকাটা বাজার সংলগ্ন শ্রীমন্ত নদীতে সেতুটির আর কোনো কার্যকর চিহ্ন নেই। নদীর মাঝখানে ভেঙে যাওয়া সেতুর একটি স্ল্যাব আড়াআড়িভাবে পড়ে রয়েছে। জোয়ারের সময় স্ল্যাবটি পানির নিচে ডুবে গেলে চলাচলকারী ট্রলার ও নৌকা প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে, ফলে নৌযান মালিকদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। মহিষকাটা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজু খান জানান, সেতু ভেঙে যাওয়ায় নদীর পূর্বপাশের মানুষকে এখন ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় বাড়ছে। বিকল্প হিসেবে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপার করছেন। আন্দুয়া কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও ছিদ্দিক আকন বলেন, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা। প্রতিবার পার হতে জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া দিতে হয়। রাতের বেলায় নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে ৩-৪ কিলোমিটার দূরের অন্য সেতু ব্যবহার করে মহিষকাটা বাজারে যেতে হয়। এতে কৃষকরা উৎপাদিত শাকসবজি বাজারে নিতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, শ্রীমন্ত নদীর ওপর সেতুটি চার বছর আগে ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক স্থানটি পরিদর্শন করেছেন এবং নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক।