অভিজ্ঞতাই বড় শক্তি : লাথাম

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের প্রথম বহর ঢাকায় পৌঁছেছে বিকেলে। স্কোয়াডের অন্য সদস্যরা এসেছেন রাত ১১টার দিকে। এক দিন বিশ্রাম নিয়ে কাল থেকে মিরপুরের ইনডোরে প্র্যাকটিস সেশনে নামবে কিউইরা।

বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ততার কারণে কিউইদের নিয়মিত একাদশের অন্তত ১০ জন খেলোয়াড়কে এই সফরে পাওয়া যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম জানান, নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি তরুণ ও কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণের একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। কিউইদের জন্য একটি ‘কৌশলগত আশীর্বাদ’। এটি দলের ভবিষ্যৎ গভীরতা ও শক্তি বাড়ানোর এক দারুণ সুযোগ।

ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ল্যাথাম জানান, ‘স্কোয়াডের প্রত্যেকেরই নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-২০ বা ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আসন্ন সিরিজে আমাদের ভালো করতে সাহায্য করবে। আমরা জানি বাংলাদেশে স্পিন একটা বড় ভূমিকা পালন করে এবং এখানকার কন্ডিশন নিউজিল্যান্ডের চেয়ে অনেক আলাদা। বিদেশের কন্ডিশনে ভালো শুরুর জন্য প্রস্তুতির সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত মানিয়ে নেয়াটা জরুরি এবং সেটা কার্যকরভাবে করতে পারব।’

দুই দেশের আবহাওয়ার পার্থক্যই প্রথম ধাক্কা হতে পারে সফরকারীদের জন্য। নিউজিল্যান্ডে যখন গ্রীষ্মের শেষভাগ, তখন বাংলাদেশে গরমের শুরু। বৈশাখের এই তাপমাত্রা মানিয়ে নেয়াটাই হতে পারে প্রথম পরীক্ষা। তবে ল্যাথামের দৃষ্টিতে আবহাওয়ার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ ক্রিকেটীয়, বিশেষ করে স্পিন। তিনি বলেন, ‘আইপিএল, পিএসএলে অনেক ক্রিকেটার থাকায় কিছু তরুণ খেলোয়াড় সুযোগ পাচ্ছে। যদিও এমন নয় যে এদের সবাই তরুণ, তবে এমন কিছু ক্রিকেটার আছে, যাদের অভিজ্ঞতা আমাদের পরিচিতদের চেয়ে কিছুটা কম। কিন্তু পুরো স্কোয়াডের দিকে তাকালে দেখা যাবে, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সময়ে নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছে, সেটা টি-২০ হোক বা ওয়ানডে।’

এই অভিজ্ঞতাকেই তিনি দলের শক্তি হিসেবে দেখছেন। ল্যাথাম বলেন, ‘দেখুন, প্রত্যেকেরই কিছু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকাটা এই সফরের জন্য আশার কথা। আমার মনে হয়, এই ক্রিকেটারদের যত বেশি অভিজ্ঞতা আমরা দিতে পারব, তা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের পুরো লাইন-আপে গভীরতা বাড়াবে।’

বাংলাদেশের কন্ডিশন সম্পর্কে কিছুটা ধারণাও রয়েছে দলের কয়েকজনের। গত বছর নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে ছয়জন ক্রিকেটার বাংলাদেশ সফর করেছিলেন, যা এই সিরিজে কাজে লাগতে পারে। তবে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশের শক্তি নিয়েই বেশি ভাবছেন কিউই অধিনায়ক, বিশেষ করে স্পিন আক্রমণ। ল্যাথাম বলেন, ‘আসলে উইকেটের সম্ভাব্য ধরন, সেটির সাথে মানিয়ে নেয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে বলেই মনে করি। আগের খেলাগুলো পর্যালোচনা করে যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশে যাওয়ার আগে অবশ্যই আমরা জানি যে, স্পিন সেখানে একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে। এটা বুঝতে হবে যে, নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ওখানকার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।’

তিনি যোগ করেন, ‘যখন বাংলাদেশ বা কিছুটা অপরিচিত কোনো জায়গায় যাওয়া হয়, খেলার আগের প্রস্তুতি সেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সেখানে গিয়ে শুরুটা ভালোভাবে করতে পারলে একটি বিশাল পার্থক্য গড়ে দেয়। মানিয়ে নেয়াটা সবসময় জরুরি। কন্ডিশনই কখনো কখনো খেলার ধরন ঠিক করে দেয়। ওই ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে হয়। আশা করি, যারা আগে এই কন্ডিশনে খেলেছে, তারা কিছুটা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারবে।’

সফর নিয়ে তার উত্তেজনাও স্পষ্ট, ‘রোমাঞ্চকর একটি সফর হবে এটি। আমার মনে হয়, অনেক সুযোগ থাকছে এখানে। ওয়ানডে এবং টি-২০ মিলিয়ে এই তিন সপ্তাহে অনেক উন্নতি হবে। কাজেই এটির অংশ হতে মুখিয়ে আছি আমরা।’

স্বাগতিক বাংলাদেশ অবশ্য নিউজিল্যান্ডের মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেনি। পাকিস্তান সিরিজের জয়ী দলটিকেই এই সিরিজের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিশ্বকাপের সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে ও ঘরের মাঠে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্বাগতিক দল জয় ভিন্ন কিছু ভাবছে না।

সূচি অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ২০ এপ্রিল একই ভেনুতে হবে দ্বিতীয় ম্যাচ। ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে হবে সিরিজের শেষ ম্যাচ। ওয়ানডে সিরিজ শেষের পর মাসের শেষভাগে হবে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ।