ইউক্রেন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্পকে নতুন বার্তা পুতিনের
রোববার মার-আ-লাগোতে ট্রাম্প- জেলেনস্কি বৈঠক
Printed Edition
রয়টার্স
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নতুন বার্তা পাঠিয়েছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউক্রেন শান্তি প্রস্তাবের খসড়া মস্কোতে পৌঁছেছে এবং তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ হয়েছে এবং প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।’
এই প্রস্তাবগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে করা হয়েছে। পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সম্প্রতি মিয়ামিতে বৈঠক শেষে প্রস্তাবের কাগজপত্র মস্কোতে নিয়ে আসেন। ক্রেমলিন বলছে, প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় আগ্রহী। তবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে বৈঠক করবেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠক মূলত শান্তি আলোচনার অগ্রগতি যাচাই করার জন্য অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প পূর্বে বলেছিলেন, তিনি কেবল তখনই জেলেনস্কির সাথে বৈঠক করবেন যখন তিনি মনে করবেন যে একটি চুক্তি কাছাকাছি রয়েছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠক শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করছে। প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতা করছে। জেলেনস্কি সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমরা একটি দিনও নষ্ট করছি না। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুতিনের বার্তা ও ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক একই সময়ে হওয়া ইউক্রেন সঙ্কটের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলছে। তবে ইউরোপীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, কেবলমাত্র যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখাই স্থায়ী শান্তির পথ।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন বৈঠককে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রাম্পের উদ্যোগ যদি বাস্তবসম্মত সমাধান আনতে পারে, তবে এটি ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে রাশিয়ার অবস্থান ও ইউক্রেনের দাবি দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।