ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে মুসলিমবিরোধী প্রচারণা
Printed Edition
আনাদোলু
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মুসলিম আমেরিকানদের বিরুদ্ধে অনলাইনে ইসলামবিদ্বেষী কনটেন্ট হঠাৎ বেড়ে গেছে। সোমবার প্রকাশিত ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট’-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ২৫ হাজারের বেশি ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিন থেকেই ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দ্রুত বেড়ে যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত ২৫,৩৪৮টি পোস্টে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অমানবিক ভাষা, সহিংসতায় উসকানি এবং বহিষ্কার বা বন্দিশিবিরে পাঠানোর মতো বক্তব্য দেয়া হয়েছে। পুনঃপ্রকাশসহ মোট উল্লেখের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৯,৪১৭, যা মূল পোস্টের তুলনায় এগারো গুণ বেশি। ১ মার্চ টেক্সাসের অস্টিনে এক বন্দুকধারীর হামলায় তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার পর অনলাইনে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য আরো বেড়ে যায়। হামলাকারী ইরান-সংক্রান্ত পোশাক পরেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক পোস্টে মুসলিমদের ‘ইঁদুর’, ‘পরজীবী’ ইত্যাদি বলে অমানবিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আবার কোথাও মুসলিমদের বহিষ্কার, বন্দিশিবিরে পাঠানো বা মসজিদে হামলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যও এই ঘৃণা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। কিছু ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কংগ্রেস সদস্য যুদ্ধকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানকে ‘ধর্মীয় বিভ্রমে চালিত শাসন’ বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের নেতৃত্বকে ‘ধর্মান্ধ উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইসরাইল যদি মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশ দখল করে নেয়, তবে তা ‘ঠিক আছে’, বাইবেলের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করে। এ ছাড়া অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন সেনাদের বলা হয়েছে ইরান যুদ্ধ বাইবেলের ‘শেষ সময়’ বা ‘আর্মাগেডন’ আনতে পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযোগ সামরিক ধর্মীয় স্বাধীনতা ফাউন্ডেশনে জমা পড়েছে। গবেষকরা বলছেন, এসব রাজনৈতিক ও সামরিক বক্তব্য অনলাইনে মুসলিমবিরোধী ঘৃণা আরো বাড়িয়ে তুলছে।