চট্টগ্রাম-১৩ আসনে নতুন ভোটার বদলে দিতে পারে বিজয়ের অঙ্ক

Printed Edition
bangla
চট্টগ্রাম-১৩ আসনে নতুন ভোটার বদলে দিতে পারে বিজয়ের অঙ্ক

মো: নুরুল কবির আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন প্রচলিত রাজনীতির ধারায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নতুন ভোটাররা, যারা এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনেও নতুন ও তরুণ ভোটাররা আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। এ আসনে নতুন ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট ভোটার ছিল তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯২ হাজার ৩৫ জনে। মাত্র দুই বছরে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৫ হাজার ১৭১ জন। নতুন ভোটারদের প্রায় ৮০ শতাংশই তরুণ-তরুণী। পাশাপাশি প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশও এবার প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, সুন্নী ঐক্য জোটের প্রার্থী এস এম শাহজাহান, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী, এনডিএম-এর মোহাম্মদ এমরান, ইনসানিয়াত বিপ্লব পার্টির মো: রেজাউল মুস্তাফা এবং গণ অধিকার পরিষদের মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মূলত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও সুন্নী ঐক্য জোটের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। বিএনপি তুলনামূলকভাবে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে থাকলেও জামায়াতের সংগঠিত প্রচারণা এবং সুন্নি জোটের ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তি ভোটের অঙ্ককে জটিল করে তুলছে। ফলে নতুন ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও তরুণবান্ধব নীতির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

নতুন ভোটারদের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই এই নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তরুণদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, অতীতে আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে শিল্পায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। আগামীতে ক্ষমতায় এলে তরুণ, প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

সুন্নি ঐক্য জোটের প্রার্থী এস এম শাহজাহান বলেন, তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই আমাদের উন্নয়ন দর্শনের মূল লক্ষ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ব্যবধান যদি কম হয়, তাহলে এই ৩৫ হাজার নতুন ভোটারই চট্টগ্রাম-১৩ আসনের ফল নির্ধারণে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নতুন ভোটারদের আস্থা অর্জন করাই প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।