গণমানুষকে জাগাতে বেরিয়ে পড়েন ভাসানী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণমানুষকে স্বাধীনতার পক্ষে সঙ্ঘবদ্ধ করতে জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বেরিয়ে পড়েন গ্রাম-গঞ্জে। গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন তিনি। ১১ মার্চ টাঙ্গাইলে জনসভার পর ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে তিনি ময়মনসিংহে জনসভা করেন। এ জনসভায়ও তিনি স্বাধীনতার কথা আবার ঘোষণা করেন।
এই দিনে বাঙালি সিএসপি কর্মকর্তারা অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন ঘোষণা করেন। তারা মিছিল ও সমাবেশ করে তাদের ঘোষণার কথা জানান। ওই সময় গঠিত সাহায্য তহবিলে তারা একদিনের বেতনও দেন। এর আগে পল্টন ময়দানে এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। ওই সমাবেশে পূর্বঘোষিত হরতাল এবং অসহযোগ কর্মসূচি বহাল রাখার ঘোষণা আসে। সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, কোর্ট-কাচারি, অফিস-আদালত, কলকারখানা, রেল-স্টিমার, বিমানসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ থাকবে। সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা প্রদান না করা পর্যন্ত ট্যাক্স ও খাজনা প্রদান বন্ধ থাকবে।
সমাবেশে মওলানা ভাসানী জাতির উদ্দেশে বলেন, পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হবেই। সাড়ে সাত কোটি মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
এদিকে সারা দেশে সিনেমা হল মালিকরা অসহযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ করে দেন। ওই সময় ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এক বিবৃতিতে খাদ্যবোঝাই চট্টগ্রামমুখী মার্কিন জাহাজের গতি পরিবর্তন করে করাচি পাঠানোর ঘটনার নিন্দা জানান।
লাহোরে আসগর খান ও স্থানীয় বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, শ্রমিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। ওই সময় জাতীয় পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুদ্দিন পাকিস্তানের দেয়া খেতাব বর্জন করেন। বগুড়ায় জেল থেকে ২৭ জন কয়েদি পালিয়ে যান। জেল ভেঙে পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে কয়েকজন হতাহত হন।