শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সঠিক অগ্রাধিকারের বিকল্প নেই : শিক্ষামন্ত্রী

Printed Edition
3rd-1
রাজশাহীতে মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন : নয়া দিগন্ত

রাজশাহী ব্যুরো

শিক্ষাখাতে আগামীতে বাজেট আরো বাড়বে, তবে সেই অর্থ কোথায় এবং কিভাবে ব্যয় করা হবে, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এমপি। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিকল্প নেই। একই সাথে তিনি কারিগরি শিক্ষাকে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতকে আরো গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। শনিবার সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শহীদ ওসমান বিন হাদী অডিটোরিয়ামে আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার কারণ, তাদের অগ্রগতি এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার উপায় সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা গ্রহণে বিলম্ব এবং কারিকুলামের সাথে সিলেবাসের অসামঞ্জস্যতাসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধি পাবে। তবে এই বাজেট যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হলে শিক্ষার কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যয় করা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই এ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই কারিগরি শিক্ষাকে অবহেলা করা যাবে না, বরং এ শিক্ষার মাধ্যমেই আমাদের উন্নয়নের নতুন বিপ্লব ঘটাতে হবে।’ তিনি শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতি গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো: দাউদ মিয়া এনডিসি, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো: আক্কাস আলী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবু হানিফ প্রমুখ।

শুধু পরীক্ষা কেন্দ্র নয়, শ্রেণীকক্ষও নজরদারির আওতায় আনা হবে

সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে শুধু পরীক্ষা কেন্দ্রই নয়, এখন থেকে শ্রেণীকক্ষও নজরদারির আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার দুপুরের দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ডা: কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এবং রাজশাহী অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ডিজিটাল নকলের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এখন নকলের ধরন পরিবর্তন হয়ে ডিজিটাল হয়েছে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ নকল চক্র থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ দিকে জেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি মন্তব্য করেন, জেলা প্রশাসকদের সন্তানরা সাধারণত ঢাকায় পড়াশোনা করে। তবে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান বাড়াতে জেলায় কর্মরত কর্মকর্তাদের সন্তানদের স্থানীয় জিলা স্কুলেই পড়াশোনা করার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া বাদ দিয়ে টিকটক করে বেড়ায়, তাদের নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। তবে যারা মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে, তাদের প্রতিই বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোফাখখারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহীর পবা-মোহনপুর আসনের এমপি শফিকুল হক মিলন, পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের এমপি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা। এ ছাড়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মচারীরা এতে উপস্থিত ছিলেন।