টিসিবির ডিলার নিয়োগে অনিয়ম
Printed Edition
শেখ দীন মাহমুদ পাইকগাছা (খুলনা)
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ডিলার নিয়োগে নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ উপেক্ষা করে অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানকে ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাবেক ডিলারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৭ জুলাই টিসিবির অতিরিক্ত পরিচালক (সিএমএস ও বিওবি) রবিউল মোর্শেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় শূন্য পদে ডিলার নিয়োগের আবেদন আহ্বান করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পাইকগাছার কপিলমুনি এলাকায় দুজনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তারা হলেন- আফাজ স্টোরের আবদুর রহমান ও ভাই ভাই মুদি স্টোরের সামিউল ইসলাম।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ‘ভাই ভাই মুদি স্টোর’ নামক প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব কপিলমুনি ইউনিয়নে নেই। পার্শ্ববর্তী হরিঢালী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানের ওপর গত ৭ মার্চ সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠানটির একটি সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেলেও সন্ধ্যার পর সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। অস্তিত্বহীন এই প্রতিষ্ঠান কিভাবে জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন ও ডিলার নিয়োগ কমিটির যাচাই-বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বৈষম্যের শিকার হওয়ার দাবি করেছেন মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বজলু। তিনি জানান, টিসিবির নীতিমালা অনুযায়ী ১৫০০-এর বেশি কার্ডধারী থাকলে সেখানে দুজন ডিলার থাকার বিধান রয়েছে। কপিলমুনিতে কার্ড সংখ্যা দুই হাজার ১৬২টি। অথচ গত ৯ ডিসেম্বর এক চিঠিতে আসন খালি না থাকার অজুহাতে তার ডিলারশিপ নবায়ন করা হয়নি। বজলু বলেন, ‘বিদ্যমান ডিলার থাকা অবস্থায় আমাকে বাদ দিয়ে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নতুন দুজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও পুনর্বিবেচনা দাবি করছি।’ এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নতুন নিয়োগ পাওয়া ডিলার সামিউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।