হামে ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ শিশুর মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তি ১৩৭১ জন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরো পাঁচ শিশু এ রোগে মারা গেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে এক হাজার ৩৭১ শিশু সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এবং ৮২ শিশু পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দুই হাজার ৭২১ শিশু নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ২৪ জন। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮ হাজার ৩৬৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে মৃত্যু হয়েছে এমন সন্দেহ করা হয়েছে এমন শিশুর সংখ্যা ১৫৬ জন। সবচেয়ে বেশি হাম সন্দেহে ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত হয়েছে সাত হাজার ২৭৩ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা এক হাজার ৫৪৯।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ শহরে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সময়োপযোগী ও গতিশীল পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকুনোজ্জামান। শিশুস্বাস্থ্যের ঝুঁকি যখন ক্রমেই বাড়ছিল, ঠিক তখনই দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরজুড়ে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে তিনি একধরনের প্রশাসনিক তৎপরতার নজির স্থাপন করেছেন।
রোববার সকালে নগর ভবনে কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই টিকাদান কার্যক্রম কেবল একটি স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগই নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় নেতৃত্বের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৫৮ হাজার ৬৬৮ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করে ৩৩টি ওয়ার্ডে ৭০টি কেন্দ্র স্থাপন এবং দলভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পরিকল্পিত বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সিটি করপোরেশন।
প্রশাসক মো: রুকুনোজ্জামানের নির্দেশনায় শুধু টিকাদান কেন্দ্র স্থাপনেই থেমে থাকেনি কার্যক্রম; নগরজুড়ে মাইকিং, মসজিদভিত্তিক প্রচারণা, বিশেষ করে জুমার নামাজের পর সচেতনতামূলক আহ্বান সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত জনসচেতনতা কর্মসূচিও চালানো হয়েছে। ফলে সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে টিকা নেয়ার আগ্রহ বেড়েছে এবং কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের উপস্থিতিও লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রশাসক রুকুনোজ্জামান বলেছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে কোনো শিশু বাদ পড়বে না, এমন অঙ্গীকার নিয়েই কাজ করছে সিটি করপোরেশন। তার ভাষায়, ‘হাম একটি জাতীয় সমস্যা। টিকাদানের মাধ্যমেই এর প্রতিরোধ সম্ভব। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নগরের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে।’