পদ হারালেন জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আমিরের সম্মতি ছাড়াই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির বিষয় পরিবর্তন করে মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত কথা যুক্ত করায় তার বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে দলটি।

গতকাল জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানান। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিভ্রান্তি এড়াতে দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেয়া হয়।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের দফতর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠি-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাটি মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময়ে প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশের পররাষ্ট্র বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কিছু অবস্থান স্পষ্ট করার স্বার্থে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠানোর বিষয়ে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। কিন্তু মাহমুদুল হাসান আমির কর্তৃক নির্দেশিত বিষয়াবলির বাইরে কিছু বিষয় যুক্ত করে চিঠিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। বিশেষ করে চিঠিতে উল্লেখিত মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি জামায়াত আমিরের নির্দেশনায় ছিল না।

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি দলের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সাথে সাথেই জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গত ২ মার্চ ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সে সাথে ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমকে (আরমান) বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে আমরা তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতে বিশ্বাস করি। আলোচ্য ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে। তাই আর ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। বিবৃতিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঠিক তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ জানান।

জানা যায়, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এজন্য ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাকে জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই সন্দেহ অবিশ্বাস দেখা দেয়। সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দফতর থেকে পাঠানোর চিঠির ভাষা পরিবর্তন করায় অপসারণ করা হয়েছে তাকে। বিগত জাতীয় নির্বাচন নিয়েও তার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।