গ্যাসের চুলা ছেড়ে লাকড়ির চুলায় ফিরছে মতলবের পরিবারগুলো

Printed Edition
bangla-13
গ্যাসের চুলা ছেড়ে লাকড়ির চুলায় ফিরছে মতলবের পরিবারগুলো

সুমন আহমেদ মতলব উত্তর (চাঁদপুর) থেকে

এক সময় চাঁদপুরের মতলব উত্তরের গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি বাড়ির রান্নাঘরেই ছিল মাটির চুলা। ঘুঁটে, খড়কুটো আর শুকনো ডালপালার আগুনে চলত নিত্যদিনের রান্না। সময়ের পরিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই দৃশ্য বদলাতে শুরু করে। অনেক পরিবার মাটির চুলা ছেড়ে ঝুঁকে পড়ে এলপিজি গ্যাসের দিকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আবারও নিভে যাচ্ছে আধুনিক রান্নাঘরের আগুন। বিকল্প হিসেবে গ্রামীণ জনপদের ঘরে ঘরে ফিরছে চিরচেনা সেই লাকড়ির চুলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগে যেখানে একটি গ্যাস সিলিন্ডার ৭৫০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে সেটির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৫০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাসে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই গৃহিণীরা ফিরছেন হাতে বানানো মাটির কিংবা সিমেন্টের তৈরি লাকড়ির চুলায়।

উপজেলার বারোআনী গ্রামের গৃহিণী সুমি বেগম বলেন, এত দামের গ্যাস কিনে আমাদের পক্ষে রান্না করা সম্ভব নয়। তাই কষ্ট হলেও নিজ হাতে বানানো লাকড়ির চুলায় রান্না করছি। এতে লাকড়িও কম লাগে, খরচও অনেক কম। একই সুরে দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের গৃহিণী রোকসানা জানান, বাপ-দাদার আমলে আমরা মাটির চুলায় রান্না করেছি। পরে গ্যাস এলেও এখন দাম এত বেশি যে আবার লাকড়ির চুলাতেই ফিরতে হচ্ছে।

ছেংগারচর বাজারের সিমেন্টের চুলা বিক্রেতা কবির হোসেন বলেন, আগে সারা দিনে এক-দুটো চুলা বিক্রি হতো। এখন প্রতিদিন ১০-১৫টা চুলা বিক্রি হচ্ছে। লেবেল চুলা ৪০০ টাকা, তলা চুলা ৬০০ টাকা আর জোড়া তলা চুলা ১২০০ টাকায় বিক্রি করছি। বছরে দেড় থেকে দুই হাজার চুলা বিক্রি করতে পারছি।

এ বিষয়ে জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: আলী হোসেন বলেন, মতলব উত্তর উপজেলায় গ্যাসের কোনো পাইপলাইন নেই। মানুষ পুরোপুরি এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি গ্রামীণ জীবনে নতুন করে ফিরিয়ে আনছে পুরনো ধোঁয়ামাখা রান্নাঘর- যা আধুনিকতার স্বপ্ন ভেঙে বাস্তবতার তাগিদে আবারও জায়গা করে নিচ্ছে গ্রামের প্রতিটি উঠোনে।