ভারতে গ্রেফতার ৭ মার্কিন ও ইউক্রেনীয় নাগরিক অস্থিতিশীল অঞ্চলে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয়ার অভিযোগ
Printed Edition
এনডিটিভি
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিক ও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। এই ঘটনার তদন্ত নাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে।
অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইক নিজেকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, যুদ্ধ সংবাদদাতা ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান এবং সে সময় তাকে কারাবরণও করতে হয়। লিবিয়ার ঘটনার পর ভ্যানডাইক ‘সনস অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ (এসওএলআই) নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনটি বিশ্বের বিভিন্ন সঙ্ঘাতপূর্ণ অঞ্চলের স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে থাকে। ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যানডাইককে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দিকে ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিকের তিনজনকে লক্ষ্ণৌ থেকে এবং তিনজনকে দিল্লি থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে হাজির করে এনআইএ।
এনআইএ তদন্তের স্বার্থে তাদের যাতায়াতের রুট শনাক্ত, ষড়যন্ত্রের প্রমাণ সংগ্রহ এবং অন্য সহযোগীদের খুঁজে বের করতে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৭ মার্চ তাদের আবার আদালতে তোলা হবে। ১৪ ইউক্রেনীয় নাগরিক ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন। তারা প্রথমে আকাশপথে গুয়াহাটি যান। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই মিজোরামে পৌঁছান। এরপর তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে (ইএজি) ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয়া; যা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, ইউরোপ থেকে ড্রোনের একটি বড় চালান ভারত হয়ে মিয়ানমারে পাচার করা হয়েছে, যা ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহারের জন্য ছিল। এনআইএ সূত্র আরো জানিয়েছে, মিয়ানমারে সক্রিয় বেশ কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে ভারতের নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। এসব গোষ্ঠী ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ।
ভারতের ভেতরে এই নেটওয়ার্কের কোনো স্থানীয় সংযোগ আছে কি না এবং কিভাবে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে ড্রোনগুলো পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গ্রেফতারের সময় জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাবেক স্পেশাল ফোর্স সদস্য এবং ভাড়াটে যোদ্ধাসহ বিদেশী নাগরিকেরা মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করছেন। সেখানে তারা দেশটির সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।