গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে ‘নো ওয়ার্ক, নো ক্লাস’ কর্মসূচি আজ
বিকেলে ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’
Printed Edition
দখলদার ইসরাইল বাহিনী কর্তৃক ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে আজ এক দিনের নো ওয়ার্ক, নো ক্লাস কর্মসূচি পালন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর থেকেই বিভিন্ন বিভাগে এই কর্মসূচি দেয়া হয়। ফলে আজ সোমবার কোনো ক্লাস কার্যক্রমে অংশ নেবে না তারা।
গতকাল দুপুরে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আন্দোলনের দুই সংগঠক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং এ বি জোবায়ের এই কর্মসূচি সফল করতে প্রতিটি বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান। তার একটু পরেই ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনগণের ডাকা ‘নো ওয়ার্ক নো স্কুল আনটিল দ্য জেনোসাইড স্টপস’ কর্মসূচির সাথে সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দেয় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও আজ বিকেল ৪টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’ এর আহ্বানে সংহতি এবং বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিগুলোতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব আজ এক ভয়াবহ নৃশংসতার নীরব সাক্ষী। মাসের পর মাস ধরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় একটি নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ এমনকি জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পর্যন্ত এই আগ্রাসন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। হাজার হাজার শিশু, নারী ও নিরীহ মানুষ হত্যা করা হয়েছে, লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত, অনাহারে ও চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর মুখে পড়েছে। এই ভয়াবহতা কেবল কোনো ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কট নয়, এটি ইতিহাসের এক গভীরতম মানবিক বিপর্যয়। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, আমরা মনে করি, ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষদের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসন কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়- বরং এটি মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধ। একটানা বোমাবর্ষণ, খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া, শিশুহত্যা-মূলত মানবতার বিরুদ্ধাচরণ।
আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে গাজায় চলমান নৃশংস গণহত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ আগামীকাল ৭ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী ‘দ্যা ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা’ কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ, বিশেষত নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন। বাড়িঘর, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজা এখন পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্নের পথে। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে নীরব থাকা নৈতিকভাবে অসম্ভব। তাই, আমরা আগামীকাল (আজ সোমবার) আমাদের সব শিক্ষার্থী সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশা করি, আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রতিবাদ সবাইকে সমস্বরে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের বিরুদ্ধে একত্রিত হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সেই সাথে আমরা সব বিবেকবান মানুষকে গাজার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।