ঢাবির ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকার বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ মাত্র ২.০৩ শতাংশ

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এক হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকার (১০.৩৩ বিলিয়ন টাকা) প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে ঢাবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই বাজেট উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট চাহিদা ছিল এক হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ৯৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা মোট চাহিদার ৬৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উৎস থেকে ৮৫ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। অর্থায়নের এই ঘাটতির কারণে নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তত ৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা বাজেট ঘাটতির মুখে পড়তে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দ কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের বছরের মতো এবারো বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হবে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ে। গবেষণা ও একাডেমিক উন্নয়নের তুলনায় নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে বেতন খাতে, যার পরিমাণ ৩২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এটি মোট বাজেটের ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ভাতা খাতে, যার পরিমাণ ২২৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা মোট বাজেটের ২১ দশমিক ৭২ শতাংশ। পণ্য ও সেবা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ২১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। পেনশন ও অবসর সুবিধা খাতে বরাদ্দ ১৫০ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অন্য দিকে গবেষণা খাতে বরাদ্দ এখনো সীমিত। গবেষণার জন্য ২১ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের মাত্র ২ দশমিক ০৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২ দশমিক ০৮ শতাংশ।

এ ছাড়া অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা (৩.৪৪ শতাংশ)। মূলধনী ব্যয়ের মধ্যে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৩৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা (৩.৩৭ শতাংশ), যানবাহন ক্রয়ে আট কোটি ৯৪ লাখ টাকা (০.৮৭ শতাংশ), তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) সরঞ্জাম খাতে ছয় কোটি ২০ লাখ টাকা (০.৬০ শতাংশ) এবং অন্যান্য মূলধনী অনুদানে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা (০.২৪ শতাংশ) বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট উপস্থাপনকালে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ঢাবিকে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিকল্প নেই। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউজিসি কোনো বরাদ্দ দেয়নি। বাংলাদেশের গবেষণা ও উন্নয়ন (জ্উ) খাতে ব্যয় জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের তুলনায় অনেক কম।

তিনি আরো বলেন, এশিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের মোট বাজেটের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ মৌলিক ও প্রয়োগধর্মী গবেষণায় ব্যয় করে। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে ঢাবি গবেষণা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে পারছে না।