ময়মনসিংহে লাখ টাকার কাজ দেখিয়ে কোটি টাকার বিল উত্তোলন

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দুর্নীতির নেটওয়ার্ক

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

ময়মনসিংহ জেলাজুড়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে (ডিপিএইচই) দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গৌরীপুরে কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে একাধিক প্রকল্পে একই কায়দায় লুটপাটের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।

অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল হোসেন প্রতিটি প্রকল্পকে পরিণত করেছেন দুর্নীতির আখড়ায়।

কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৩০-৩৫ শতাংশ হলেও ঠিকাদারকে বিল দেয়া হয়েছে প্রায় অর্ধেকের বেশি। অথচ জনগণের ভাগ্যে জোটেনি এক ফোঁটা নিরাপদ পানি। ২২৮ স্কিমে ২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ, কাজ হয়নি অর্ধেকও।

২০২২ সালে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর, ফুলপুর, ত্রিশাল, ভালুকা, মুক্তাগাছা ও হালুয়াঘাট উপজেলায় ২২৮টি সিম্পল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দেয়া হয়। প্রকল্পটির মোট চুক্তিমূল্য ছিল ২৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল। কিন্তু বাস্তবে কাজ হয়েছে মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশ। ঠিকাদারকে দেয়া হয়েছে ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

প্রতিটি স্কিমে ৪০টি পরিবারে পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে গৌরীপুরে ৩৮টির মধ্যে মাত্র দু’টি স্কিমে পানি উঠছে, তাও নিম্নমানের উপকরণে।

মাঠে নেই পানি, নথিতে শতভাগ অগ্রগতি : সরেজমিন দেখা যায়, অধিকাংশ ট্যাংকি ও পাইপলাইন পড়ে আছে অচল অবস্থায়

এক ইঞ্চি পাইপের বদলে বসানো হয়েছে হাফ ইঞ্চি পাইপ। অনেক স্কিমে কল বসানোর আগেই ভেঙে গেছে, কোথাও পাইপলাইনের পাকাকরণ হয়নি।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ‘ট্যাংকি আছে, কল আছে, পানি নেই’। প্যাকেজ বাতিল; কিন্তু দায় কার : ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই প্যাকেজটি বাতিল করা হয়। অথচ ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ইতোমধ্যে উত্তোলন, অবশিষ্ট ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ছাড় হয়নি।