প্রথম ম্যাচেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হাইতি
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের অভিযান শুরু করতে আগামীকাল ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন স্টেডিয়ামে সাকাল ৭টায় মুখোমুখি হবে হাইতি ও স্কটল্যান্ড। দুই দলই দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে, তবে শুরু থেকেই তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন বাস্তবতা। কারণ একই গ্রুপে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং সাম্প্রতিক আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো।
এমন পরিস্থিতিতে দুই দলের কাছেই উদ্বোধনী ম্যাচটি প্রায় নকআউটের মতো গুরুত্ব বহন করছে। পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখতে তিন পয়েন্ট পাওয়াকে প্রায় অপরিহার্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
হাইতির জন্য এটি ঐতিহাসিক এক প্রত্যাবর্তন। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম তারা আবার বিশ্বকাপে খেলছে। পশ্চিম জার্মানিতে নিজেদের একমাত্র আগের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ক্যারিবিয়ান দলটিকে, যেখানে তারা মোট ১৪ গোল হজম করেছিল।
তবে এবারের যাত্রা ভিন্ন। সম্প্রসারিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপ কাঠামো কাজে লাগিয়ে কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বে ছয় জয় ও দুই ড্র নিয়ে জায়গা নিশ্চিত করে হাইতি। শেষদিকে কোস্টারিকা ও নিকারাগুয়ার বিপক্ষে টানা জয় তাদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়।
তবে মাঠের বাইরের গল্প আরো কঠিন। দেশের নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে নিজেদের ‘হোম’ ম্যাচও প্রায় ৫০০ মাইল দূরে কুরাসাওয়ে খেলতে হয়েছে দলটিকে। এমনকি দায়িত্ব নেয়ার প্রায় দেড় বছর পরও প্রধান কোচ সেবাস্তিয়েন মিগনে এখনো হাইতির মাটিতে পা রাখতে পারেননি।
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৮৩ নম্বরে থাকা হাইতি এই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন র্যাংকধারী দল হলেও প্রস্তুতি ম্যাচে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ গোলে হারানো তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। যদিও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পেরুর কাছে ২-১ ব্যবধানে হার কিছুটা সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে।
হাইতির আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ডাকেন্স নাজঁ। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৪ গোল করা এই স্ট্রাইকারের সাথে আক্রমণে থাকতে পারেন উইলসন ইসিদর। মাঝমাঠে গতি ও সৃজনশীলতা যোগ করবেন জ্যাঁ-রিকনার বেলগার্দ।
অন্য দিকে স্কটল্যান্ডও বিশ্বকাপে ফিরছে দীর্ঘ বিরতির পর। এটি তাদের নবম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। তবে ইতিহাস তাদের খুব একটা স্বস্তি দেয় না। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে আগের ১২টি বড় টুর্নামেন্টেই তারা গ্রুপ পর্ব পার হতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরো মজার বিষয় হলো- ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যে ব্রাজিল ও মরক্কোর সাথে একই গ্রুপে পড়ে বিদায় নিয়েছিল স্কটল্যান্ড, এবারো সেই দুই প্রতিপক্ষ আবার তাদের গ্রুপে রয়েছে।
স্টিভ ক্লার্কের দল অবশ্য আত্মবিশ্বাস নিয়ে এসেছে। ইউরোপিয়ান বাছাইয়ে নাটকীয়ভাবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে। সাম্প্রতিক প্রস্তুতি ম্যাচেও কুরাসাও ও বলিভিয়ার বিপক্ষে টানা বড় জয় পেয়েছে স্কটিশরা। তবে দুশ্চিন্তাও আছে। মিডফিল্ডার বিলি গিলমোর চোটের কারণে পুরো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। স্কট ম্যাকটোমিনের খেলা নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
স্কটল্যান্ডের আক্রমণে নজর থাকবে লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড ও চে অ্যাডামসের ওপর। সাম্প্রতিক দুই প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন শ্যাঙ্কল্যান্ড। পাশাপাশি জন ম্যাকগিন ও অ্যান্ডি রবার্টসনের অভিজ্ঞতা দলকে বাড়তি শক্তি দেবে।সম্ভাব্য একাদশে হাইতি নামতে পারে ৪-৪-২ ফরমেশনে, যেখানে প্লাসিদে থাকবেন গোলপোস্টে। অন্য দিকে স্কটল্যান্ডও একই ছকে খেলতে পারে, নেতৃত্বে থাকবেন অভিজ্ঞ রবার্টসন।