আসছে নতুন নির্দেশনা

‘মিড ডে মিল’ নিয়ে সব জেলায় অসন্তোষ শিশুদের খাবার ক্রয়েও অর্থ লোপাট

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিলের খাবার ক্রয়েও অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। আবার বেশি টাকায় যে খাবার কেনা হচ্ছে সেই খাবারের মান নিয়েও আপত্তি আসছে। ফলে এখন থেকে খাবার পরিবেশনের আগে মান যাচাইয়ে আরো কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্প চালু হওয়ার পরেই দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে নিম্নমানের ও পচা খাবার সরবরাহ করার অভিযোগ আসতে থাকে। অনেক উপজেলায় দুর্গন্ধযুক্ত অপুষ্টিকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition
Primary schools reopen today after Eid and summer vacations

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিলের খাবার ক্রয়েও অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। আবার বেশি টাকায় যে খাবার কেনা হচ্ছে সেই খাবারের মান নিয়েও আপত্তি আসছে। ফলে এখন থেকে খাবার পরিবেশনের আগে মান যাচাইয়ে আরো কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্প চালু হওয়ার পরেই দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে নি¤œমানের ও পচা খাবার সরবরাহ করার অভিযোগ আসতে থাকে। অনেক উপজেলায় দুর্গন্ধযুক্ত অপুষ্টিকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

এ দিকে এই সমস্যা উত্তোরণে প্রাথমিকের মিড-ডে মিলে ব্যাপক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনার মধ্যে মিড ডে মিলে ড্রাই ফ্রুটস যুক্ত করা, খাবার গ্রহণের সময় প্রধান শিক্ষককে খাবারের মান যাচাই করে নেয়ার মতো নির্দেশনা আসতে যাচ্ছে। খাদ্যের মান ও পরিমাণ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ; খাদ্যদ্রব্যের ধরণ অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে খাদ্যের গুণগত মান বজায় থাকে; বিশেষ করে বনরুটি টাটকা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা পরীক্ষা করতে হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সরকারের পক্ষে সব স্কুলে স্কুলে সরবরাহকৃত খাবারের মান যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট কমিটি মিড-ডে মিলের খাবার বুঝে নেবে। বিশেষ করে হেডমাস্টার (প্রধান শিক্ষক) খাবার বুঝে নেবে। খাবার নেয়ার সময় নাক দিয়ে স্মেল (গন্ধ) নিলে খাবার ভালো না খারাপ সেটি বোঝা যাবে। একই সাথে খাবারের ম্যানুতেও পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মিড ডে মিলে ড্রাই ফ্রুটস যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ড্রাই ফ্রুটস যুক্ত করার পাশাপাশি শিশু শিক্ষার্থীদের খাবারে আমরা আরো ক্যালরি যুক্ত করতে চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীরা যেন বেশি পুষ্টি পায় সেই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী নিয়মিত খাবার পাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো-কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার হার কমানো। এজন্য শিক্ষার্থীদের খাদ্যতালিকায় রাখা হয়েছে বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ এবং ফর্টিফায়েড বিস্কুট।

এ দিকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সরকারের এ উদ্যোগ দেশব্যাপী প্রশংসা পেলেও মাঠপর্যায়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন স্কুলে পচা ডিম ও কলা সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় পর্যায়ে খাবার সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এজেন্টরা নি¤œমানের খাবার সরবরাহ করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দাম দিয়ে নি¤œমানের রুটি কেনা, আগেভাগে ডিম সেদ্ধ করে রাখার কারণে খাবার নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের হাতে কাঁচা বা পচা কলাও দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, ‘মিড-ডে মিল’ প্রকল্পে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। অনিয়ম রোধে আমরা কিছু পরিকল্পনা করেছি। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়গুলো চূড়ান্ত হওয়ার পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব। মিড-ডে মিল নিয়ে কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, প্রতি ডিম ১৪ টাকা, কলা ১০ টাকা, বানরুটি ২৫ টাকা, দুধ ২৯ টাকা এবং বিস্কুট প্রতি প্যাকেট ১৯ টাকা করে ধরা হয়েছে। সে হিসাবে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে প্রতিদিন ২৯ থেকে ৫৩ টাকা পর্যন্ত খরচ হওয়ার কথা।