প্রসিকিউটরের অনিয়ম তদন্তে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলন ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিকে জামিন করিয়ে দেয়ার আশ্বাসে এক প্রসিকিউটরের ঘুষ দাবির অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি কাজ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম গতকাল বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। পদত্যাগী প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালাকুদারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার পাঁচ সদস্যের এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তবে প্রথম দিনের বৈঠক হয়েছে চারজনকে নিয়ে।

চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম এই কমিটির প্রধান। অন্য সদস্যরা হলেন- প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটর মার্জিনা রহমান মদিনা, মোহাম্মদ জহিরুল আমিন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ল রিসার্চ অফিসার সিফাতুল্লাহ। প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও প্রসিকিউশনের সার্বিক বিষয় অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। সদ্য পদত্যাগ করা সাইমুম রেজা তালুকদারের ঘুষ চাওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করবে এ কমিটি।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বা একটি অভিযোগ এসেছে, যে অভিযোগটাকে আমরা হালকাভাবে দেখছি না। একই সাথে এই ট্রাইব্যুনালে আরো যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, এসব বিষয়ে আমরা একটি বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন করার জন্য আমার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছি। এখানে সামনে আরো তিনজন আছেন। আরো একজন আছেন, তিনি আজকে শারীরিক কারণে অনুপস্থিত। আমরা পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি করেছি। আজকে আমরা চারজন একত্রে বসেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে আমাদের প্রসিকিউশন টিমের কোনো সদস্য বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকেন, সেই বিষয়টির আমরা তথ্য উদঘাটন করব। যদি তাদের বিরুদ্ধে সাবস্টেনটিভ কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব।

ঘটনাটি চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমকে নিয়ে। তিনি জুলাই আন্দোলনের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আছেন। ফজলে করিমের জামিন নিয়ে তার এক আইনজীবীর সাথে পদত্যাগী প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের কথপোকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়, যা নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অভিযোগ ওঠে রেজা তালুকদারের ‘ঘুষের বিনিময়ে’ আসামির জামিন করিয়ে দেয়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন।

এরপর মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম হুঁশিয়ার করে বলেছেন, প্রসিকিউটরদের দায়িত্ব পালনে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সে দিনই কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার গত সোমবার পদত্যাগ করেন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন এবং বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান সাইমুম তালুকদার। ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হলেও ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ পাওয়ার আগে তার মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব কম ছিল। এ দিকে জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদকের পদে ছিলেন সাইমুম তালুকদার। গুরুতর আর্থিক দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠায় তাকে বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি।