মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান উপদেষ্টা

আরো মানবিক সহায়তার জন্য জাহাজ প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
1st 2
প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান এবং মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী উ থান শো ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে যৌথ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম (বাঁয়ে) উপস্থিত ছিলেন : পিআইডি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী ও স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। গত শুক্রবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে স্থানীয় একটি হোটেলে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস গত ২৮ মার্চ ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় মিয়ানমারের জনগণের প্রতি গভীর শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। দুর্যোগের পর বাংলাদেশী উদ্ধারকারী দলকে মিয়ানমার পাঠানো এবং বাংলাদেশ কর্তৃক প্রদত্ত মানবিক সহায়তা নিয়ে তারা আলোচনা করেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা আরো মানবিক সহায়তা দিতে সদা তৈরি। আমাদের জাহাজ প্রস্তুত রয়েছে।’ মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ইউনূসকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন এই আঞ্চলিক সংগঠন নতুন গতিশীলতা লাভ করবে।

এ দিকে একই দিন ব্যাংককের শ্যাংরি-লা হোটেলে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় অধ্যাপক ইউনূস ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও তার পুরনো বন্ধু থাকসিনের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

থাকসিন ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরপরই তার সহকর্মীদের নিয়ে বাংলাদেশ সফর এবং গ্রামীণ ব্যাংক পরিদর্শন করেন। গ্রামীণ ব্যাংকের মাইক্রোক্রেডিট কর্মসূচির সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি থাইল্যান্ডে একটি অনুরূপ মাইক্রোক্রেডিট কর্মসূচি চালু করেন। সেই বছরই জাতীয়ভাবে কর্মসূচির উদ্বোধনে অধ্যাপক ইউনূসকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা চিয়াং মাই ও চট্টগ্রামের মধ্যে বিমান রুট পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন, যা একসময় বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে যাত্রার সময় এক ঘণ্টায় নামিয়ে এনেছিল।

থাকসিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে উদ্বোধনী ফ্লাইটে চট্টগ্রাম থেকে চিয়াং মাই ভ্রমণের কথা স্মরণ করেন। অধ্যাপক ইউনূস ও থাকসিন পারস্পরিক আগ্রহের অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের আসিয়ান সদস্যপদ লাভে থাকসিনের সমর্থন চান। তিনি সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার শাসনামলে থাই-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে সহায়তা ও এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় থাকসিনের মূল্যবান সহায়তা কামনা করেন। সাক্ষাৎকালে তারা বৈশ্বিক বাণিজ্য ইস্যু ও থাইল্যান্ডের গ্রামীণ অঞ্চলে মাইক্রোক্রেডিট ও সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা করেন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

খেলাধুলা মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে : প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, খেলাধুলা শিশু ও তরুণদের মেধা মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, দায়িত্বজ্ঞান ও কর্তব্যপরায়ণতার সৃষ্টি হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে গতকাল দেয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা একথা বলেন।

বাণীতে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবারো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস-২০২৫ উদযাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। তারুণ্যের শক্তি ধারণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস আয়োজন করায় আমি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, দেশী ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন, বোর্ড, ক্রীড়া সংগঠকসহ সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবারের ক্রীড়া দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘তারুণ্যের অংশগ্রহণ, খেলাধুলার মানোন্নয়ন’ নির্ধারণ করা সময়োপযোগী ও যথাযথ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমাদের তরুণরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করছে। ক্রিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে গৌরব ও সুনাম অর্জন করেছে। আমাদের নারীরা গত বছর নেপালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৪ এ শিরোপা জয় করেছে। দাবায়ও সাফল্য এসেছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দুই দশক পর ইরানের তেহরানে এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ জাতীয় নারী কাবাডি দল ব্রোঞ্জ পদক পুনরুদ্ধার করেছে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলে যৌথ চ্যাম্পিয়ন এবং নেপালে অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ হকির ছেলেদের বিভাগে প্রথমবার বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ যুব হকি দল। নেপালে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতেছে আমাদের তরুণরা।