বাঁধ দিয়ে যুবলীগ নেতার খাল দখল, দূষণে ১০ গ্রামের মানুষের নাভিশ্বাস

Printed Edition

চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে একটি অবৈধ ইটভাটার সুবিধার্থে সরকারি খালে বাঁধ দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। প্রভাবশালী এক যুবলীগ নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থে দেয়া এই বাঁধে খালের পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত এই বাঁধ অপসারণের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজে এই খাল খননকাজের উদ্বোধন করেছিলেন। মধুমতী নদী থেকে নালুয়া বাজার হক ক্যানেল পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি কলাতলা, বড়বাড়িয়া ও শিবপুর ইউনিয়নের মানুষের চাষাবাদ ও গৃহস্থালি কাজের প্রধান উৎস। দীর্ঘ সময় পর খালের নাব্যতা ফেরাতে ২০২৩ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে এটি পুনঃখনন করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, পুনঃখননকাজের পরপরই তৎকালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মাহাতাবুজ্জামান তার ‘মা ইটভাটা’র যাতায়াতের সুবিধার্থে খালের পরানপুর অংশে একটি বাঁধ দিয়ে সরু ইউ-ড্রেন বসান। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এক বছর ধরে পানি আটকে থাকায় বর্তমানে তা পচে কালচে বর্ণ ধারণ করেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, খালের দুই পাড়ের মানুষ নিরুপায় হয়ে এই পচা পানিই ব্যবহার করছেন। বড়বাড়িয়া গ্রামের মনিরুজ্জামান ও নালুয়া গ্রামের লাবলু শেখ বলেন, পচা পানি ব্যবহারের ফলে এলাকায় চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। চাষাবাদও ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। একজন নেতার ইটভাটার জন্য ১০ গ্রামের মানুষ কেন কষ্ট পাবে?

চিতলমারী পরিবেশ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রভাবশালীরা এই প্রাণবন্ত খালটি মেরে ফেলেছে। আমরা চাই দ্রুত বাঁধটি অপসারণ করে মধুমতী থেকে হক ক্যানেল পর্যন্ত পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হোক।

এদিকে গত ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা শেখ মাহাতাবুজ্জামান পলাতক থাকায় এবং তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস মিলেছে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, খালে অবৈধ বাঁধ দেয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জনগণের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত তদন্ত করে বাঁধটি অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।