জটিল করব্যবস্থায় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়
ডিবেট ফর ডেমোক্র্যসির প্রাক-বাজেট ছায়া সাংসদ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রত্যেকটি বাজেটে একটি সুস্পষ্ট উন্নয়ন দর্শন থাকা প্রয়োজন এবং এতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড: সেলিম জাহান। তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও গুণগত উন্নয়ন না হওয়ায় অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক জীবনে স্বস্তি ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশ প্রত্যাশা করে।
শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে আয়োজিত প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এবং এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ড. সেলিম জাহান বলেন, অত্যন্ত জটিল বাস্তবতায় এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবের পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের চাপও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫ শতাংশই বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া জ্বালানি, রফতানি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকির কারণে ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও আয়ের তুলনামূলক বৃদ্ধি হচ্ছে না, ফলে বাজেটে ঘাটতি বাড়ছে।
তিনি আরো বলেন, করব্যবস্থাকে জটিল করে অনেক সময় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। করদাতাদের মধ্যে করভীতির চেয়ে করদানে অনীহাই বেশি, যা বিশেষ করে উচ্চবিত্তদের মধ্যে লক্ষণীয়। উচ্চবিত্তদের ওপর কার্যকর কর আরোপে সরকার প্রায়ই দ্বিধাগ্রস্ত থাকে, কারণ নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় তাদের প্রভাব তুলনামূলক বেশি।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের বেশির ভাগ প্রকল্পই অতিমূল্যায়িত ছিল এবং প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যয় ছিল অপ্রয়োজনীয় বা অপচয়। এই ধরনের প্রকল্প থেকে সৃষ্ট আর্থিক রক্তক্ষরণ বন্ধ না করলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে না।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও সতর্ক বাজেট প্রণয়ন জরুরি। বাজেট যেন জনভোগান্তি না বাড়ায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং নি¤œ ও মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়- এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। একই সাথে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য হয়রানিমুক্ত ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে সৎ ব্যবসায়ীরা যেন প্রতিহিংসার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অযথা ব্যাংক হিসাব বন্ধ না করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখার সুযোগ দিতে হবে। তবে যারা অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
‘অর্থনৈতিক সুরক্ষায় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি আগামী বাজেটের প্রধান কৌশল হওয়া উচিত- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজকে পরাজিত করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অতিরিক্ত কর কমিশনার মেহেদী হাসান তামিম, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল এবং সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।