দ: কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ১০ বছরের কারাদণ্ড
সামরিক আইন জারির চেষ্টা
Printed Edition
টিআরটি ওয়ার্ল্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইউলকে সামরিক আইন জারির চেষ্টা করার অভিযোগে আদালত ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সিউলের একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করে। বিচারকরা বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করার জন্য সামরিক আইন জারির পরিকল্পনা করেছিলেন, যা দেশের সংবিধান ও আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলার নামে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। তিনি সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন, যাতে প্রয়োজনে সংসদ ভেঙে দেয়া যায় এবং বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার করা যায়। এই পদক্ষেপকে আদালত ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
প্রসিকিউশন বলেছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের এই পরিকল্পনা দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বিপন্ন করেছিল। তারা আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে, এটি প্রমাণ করে যে দক্ষিণ কোরিয়ায় আইনের শাসন বিদ্যমান। অন্য দিকে, সাবেক প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তবে তা সামরিক আইন জারি করার উদ্দেশ্যে ছিল না। তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করবে। একই সাথে এটি ভবিষ্যতের নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা যে ক্ষমতার অপব্যবহার করলে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এই রায় এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, যেখানে গণতন্ত্র প্রায়ই রাজনৈতিক সঙ্কটে পড়ে।