সবার জন্য সুযোগে বিশ্বাস করে সরকার : প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘ব্যাংক রেজুলুশন আইন’-এর ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হলে সুপ্রিম কোর্ট ব্যবস্থা নেবে। আইন সবার জন্য প্রযোজ্য। তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার বাস্তববাদী এবং সবার জন্য সুযোগ থাকতে হবে বলে বিশ্বাস করে।
গতকাল শনিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এ কথা বলেন। ‘ব্যাংক রেজুলুশন আইন’এর ১৮(ক) অনুযায়ী একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় সাবেক মালিকরা তুলনামূলক সহজ শর্তে ফিরে পেলে ফের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও ব্যাংকগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সবার জন্য সুযোগ থাকতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি হাইকোর্টে কী পরিমাণ রিট রয়েছে সে দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, সরকার চায় না দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাক। সরকার চায় বন্ধ কলকারখানা চালু হোক, বিনিয়োগ আসুক। সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সরকারের বড় কাজ প্রস্তুতি নেয়া এবং সেখানেই চ্যালেঞ্জ বেশি। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে, সক্ষমতা নেই এবং বিনিয়োগ স্থবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্কটকালে অভিযোজন ক্ষমতা ও সহনশীলতা অনেক বেশি, যা প্রতিটি সঙ্কটকে সুযোগে পরিণত করতে পারে। অতীতেও এটি প্রমাণিত হয়েছে। কোভিড মহামারীর সময়ে রেমিট্যান্সের অর্থনীতি ছিল বলে গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়েনি। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে বলেই সরকার জালানির দাম বৃদ্ধি করতে চায়নি। তবে জালানির কৌশলগত মজুদের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের মজুদ ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রেও দরকার। আর সরকার তা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এ জন্য বিভাজন থেকে সম্প্রীতি, মননশীলতা ও বিকাশ জরুরি। উত্তরাঞ্চলে ভুট্টা ও আলুর মতো উদ্বৃত্ত ফসল আছে, দুগ্ধজাত পণ্য আছে বলে মোজারেলা পনির তৈরি হচ্ছে, যখন ইউরোপে টিউলিপ হয় না তখন উত্তরাঞ্চলে তা চাষ হচ্ছে। গরু ও পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার উল্লেখ করে তিনি বলেন বাংলাদেশের মানুষ রেজিলিয়েট। জনগণের এই রেজিলিয়েন্সকে কাজে লাগাতে চায় সরকার।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সঙ্কটকে সৃজনশীল কায়দায় মোকাবেলা করা বড় সংস্কার। বিভাজনের রাজনীতি নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজ করতে চাই। নীতিমালা দেশজ, টেকসই ও বাস্তবমুখী না হলে সংস্কার যুগোপযোগী হয়ে ওঠে না। বিনিয়োগের পূর্ব শর্ত হিসেবে তিনি জালানি নিরাপত্তা ও স্বল্প খরচে জালানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ডিজেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরিতে যে খরচ হয় সৌর শক্তিতে তার দশ ভাগের এক ভাগ খরচ হয়।
তিনি বলেন, অনেকের ধারণা সরকারকেই প্রণোদনা দিতে হয় কিন্তু ব্যক্তি খাতই সবচেয়ে বেশি প্রণোদনা দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএ’র কারখানাগুলোতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহারের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কেতাবি কায়দা থেকে বের হয়ে আমাদের সৃজনশীল পদ্ধতিতে আসতে হবে। তিনি বলেন, সঙ্কট থেকে কেউ না কেউ লাভবান হয়। অতীতে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বৃত্ত পুঁজি ব্যবহারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে নতুন এক ধারা সৃষ্টি করেছিলেন।
সেমিনারে অতিথির বক্তব্যে সিপিডির ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনীতি ভালো না হলে রাজনৈতিক মাশুল দিতে হবে। মনে রাখতে হবে আমরা যেনো ঋণের ফাঁদে আটকে না পড়ি। এ ক্ষেত্রে পুঞ্জীভূত উচ্চমূল্য নীতি, ব্যাংকিং খাতে সঙ্কটকে অর্থনীতির প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালি প্রবৃদ্ধি অর্জন করলে হবে না, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে না পারলে সামাজিক অস্থিরতা এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ জন্য সরকারকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে খুব কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার কোন খাতে বরাদ্দ কমিয়ে কোন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করবে তার ওপর নির্ভর করছে রাজনৈতিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে সিপিডির এই ফেলো বলেন, সম্পদের বণ্টন বৈষম্য ও অন্যায্যতার কারণেই জুলাই আন্দোলন হয়েছিল। কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি কোনো কাজে আসবে না। রাজস্বের একটা বড় অংশ দেশী ও বিদেশী ঋণ পরিশোধে চলে যাচ্ছে, এর রাশ টেনে ধরতে হবে।