বাংলা একাডেমির বার্ষিক সভা ও পুরস্কার প্রদান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪৮তম বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সাহিত্য ও নাটকের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য মনোনীতদের পুরস্কৃত করা হয়।

এর মধ্যে ভাষাভিত্তিক গবেষণার জন্য এ বছর ‘সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন অধ্যাপক মনসুর মুসা। প্রকৃতি ও বিজ্ঞানচর্চার জন্য ‘মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন খসরু চৌধুরী। বাংলা কবিতায় অবদানের জন্য ‘মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার’ পেয়েছেন সানাউল হক খান। সব পুরস্কারেরই অর্থমূল্য এক লাখ টাকা।

‘সাদত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন হাফিজ রশিদ খান। নৃগোষ্ঠীর জীবন ও সাহিত্য বিষয়ে গবেষণার মূল্যায়নে পুরস্কারটি পেয়েছেন তিনি। অভিনয়, নাট্য-নির্দেশনায় ও সংগঠক হিসেবে অবদানের জন্য ‘অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কারে’ ভূষিত হয়েছেন তারিক আনাম খান। অনুবাদ সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য ‘আবু রুশ্দ সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন শিবব্রত বর্মণ। এগুলোর ও অর্থমূল্য এক লাখ টাকা।

গণিতকে সহজবোধ্য ও উপভোগ্যভাবে উপস্থাপনের জন্য ‘হালীমা-শরফুদ্দীন বিজ্ঞান পুরস্কার’ দেয়া হয় সফিক ইসলামকে। এর অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ‘রাবেয়া খাতুন কথাসাহিত্য পুরস্কার-২০২৫’ যৌথভাবে পেয়েছেন দু’জন। পুরস্কারের অর্থমূল্য দুই লাখ টাকা। তারা হলেন কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য মনোনীত হয়েছেন সুব্রত বড়ুয়া এবং অনূর্ধ্ব-৪৯ বছর বয়সী লেখকদের মধ্যে সিসিফাস শ্রম গল্পগ্রন্থের মূল্যায়নে লেখকদের মধ্যে আনিসুর রহমান। প্রত্যেকে এক লাখ টাকা করে পেয়েছেন।

বাংলা একাডেমি ষাণ¥ানিক ফেলোশিপ দেয়া হয় সাত বিশিষ্টব্যক্তিত্বকে। প্রতি বছর নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তারা ষাণ¥ানিক পুরস্কার পেয়ে থাকেন। এ বছর যারা বাংলা একাডেমি ফেলো পুরস্কার পাওয়া গুণী ব্যক্তিরা হলেন- সাংবাদিকতা বিভাগে ফিলিপ গাইন, অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, চিত্রকলা বিভাগে চিত্রশিল্পী সমর মজুমদার, ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক পারভীন হাসান, শিল্পকলা বিভাগে মারিনা তাবাশ্যুম, বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক বিজন কুমার শীল। বাংলা একাডেমি ফেলোরা সম্মাননা পদক, সনদ ও পুষ্পস্তবকে ভূষিত হন।

এর আগে একাডেমির প্রাঙ্গণে নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় বাংলা একাডেমি ফেলো, জীবনসদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। পবিত্র কুরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়।