খালেদা জিয়ার জানাজা
সেনাবাহিনী বিজিবি পুলিশের নি-িদ্র নিরাপত্তা বলয়
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র, কিংবদন্তি আপসহীন রাষ্ট্রনায়ক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নেয়া মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়। গতকাল ভোর থেকেই প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে রাজপথে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত ভোর থেকেই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবহ অন্যন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নি-িদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।
জানাজা অনুষ্ঠানে, প্রধান উপদেষ্টা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, তিন বাহিনীর প্রধান, বিজিবি মহাপরিচালক, আইজিপি ও র্যাবের ডিজি, ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছিল। সেই ব্যারিকেডে বন্ধ রাখা হয়েছে শুধু যান চলাচল। মানুষের চলাচলে কোনো বাধা নেই। ফলে বাস, প্রাইভেটকার কিংবা মোটরসাইকেল থেমে থাকলেও থেমে ছিল না মানুষের ঢল। লাখো মানুষ হেঁটে হেঁটে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় অবস্থা নিয়ে জানাজায় অংশ নেয়। এর আগে জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সবাই সারিবদ্ধভাবে হাঁটার মধ্যেই বেলা ৩ টা ৩ মিনিটে খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। শেষ হয় তিনটা ৫ মিনিটে। মাঝের ২ মিনিট নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। সেই নীরবতা ভেদ করে ভরে উঠে আল্লাহ আকবর আল্লাহ আকবর ধ্বনি। জানাজা শেষে যেন জনস্রোত থেকে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ গন্তব্যে পৌঁছতে কিছুটা বেগ পেলেও দোয়া- দুরূদ পড়তে পড়তে জানাজাস্থল থেকে বের হতে শুরু করে।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা-সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে লোকজন জড়ো হয়েছে। এরই মধ্যে কাওরানবাজার, ফার্মগেট, তেজগাঁও, বাংলামোটর ও বিজয়সরণি, জাহাঙ্গীর গেটসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে দেখা গেছে মানুষের দীর্ঘ মিছিল। কেউ একা, কেউ দলবেঁধে, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন জানাজাস্থলের দিকে। অনেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন হেঁটে কারো হাতে জাতীয় পতাকা, কারো হাতে দলীয় পতাকা, আবার কেউ নীরবে চোখের পানি মুছছেন। দীর্ঘ হাঁটা কিংবা ক্লান্তি— কানোটাই যেন মানুষের আবেগকে থামাতে পারেনি। অনেকেই বলছেন, ‘পরিবহন বন্ধ থাকলেও নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে হাঁটতে আপত্তি নেই।’
জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সকাল থেকেই ঢাকায় আসেন। কেউ ট্রেনে, কেউ বাসে করে ঢাকার কাছাকাছি এসে এরপর হেঁটে রওনা হয়েছেন। অনেকে রাতেই ঢাকায় পৌঁছেছেন, কেউ কেউ ভোর থেকে রাস্তায় নেমেছেন।