মার্কিন স্পেস সোসাইটির প্রতিযোগিতায় প্রথম কোটচাঁদপুর সরকারি স্কুল
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার অঙ্গনে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশের একঝাঁক মেধাবী তরুণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী মহাকাশ সংস্থা ন্যাশনাল স্পেস সোসাইটি আয়োজিত ২০২৬ সালের ‘লিভিং ইন আ হেলদি স্পেস’ বৈশ্বিক ডিজাইন প্রতিযোগিতায় দশম গ্রেড ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সরকারি মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। গত ৩১ জানুয়ারি সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বিশ্বব্যাপী জমা পড়া শত শত উদ্ভাবনী প্রকল্পের মধ্য থেকে বাংলাদেশের এই তরুণদের প্রকল্পটি শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে।
শিক্ষার্থীদের তৈরি এই প্রকল্পের শিরোনাম ছিল ‘স্টেলার হ্যাভেন : আ ভিশন অব হারমনি, হেলথ অ্যান্ড প্রপ্রেস’। মহাকাশে মানববসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জকে তারা তাদের মডেলে বাস্তবসম্মতভাবে সমাধান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশের বৈরী পরিবেশে পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং মহাকাশে বর্জ্য রিসাইকেল করে তা পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার মতো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। তাদের এই দৃষ্টিনন্দন ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান বিচারকদের মুগ্ধ করে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থানে নিয়ে আসে।
দীর্ঘ এক বছরের নিরলস পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফসল এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের নেপথ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সাতজন মেধাবী শিক্ষার্থী- খাজা আতিফ আবিদ, মো: তসলিম উদ্দিন, আরেফিন সিদ্দিক, ওমর ফারুক আল সাবিত, তৌফিক আহমেদ, তাসলিম আহমেদ ও মো: মুন্তাসির রহমান বিশ্বাস। এই অসাধারণ সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বাংলাদেশের মফস্বল শহরের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ভবিষ্যতে মহাকাশ গবেষণা ও বিজ্ঞানের উচ্চতর শিখরে আরোহণে এই তরুণদের সাফল্য সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।