লক্ষ্য এবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়া মিশন শেষ বাংলাদেশ সিনিয়র নারী ফুটবল দলের। ব্যর্থ যাত্রা শেষ করে আজ দেশে ফিরছেন আফঈদা খন্দকাররা। ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশটিতে গিয়ে পিটার জেমস বাটলার বাহিনী না পেয়েছে কোনো পয়েন্টের দেখা পেতে, না সক্ষম হয়েছে কোনো গোল দিতে। অথচ তাদের লক্ষ্য ছিল অন্তত একটি ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার। কিন্তু প্রথম ম্যাচে চীন (০-২) ও পরের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে (০-৫) হারটা মানা গেলেও পরশু উজবেকিস্তানের কাছে ০-৪ গোলে হারটা বেশি কষ্টদায়ক। এ নিয়ে এখনই বাফুফেকে ভাবতে হবে। তবে এখন নারী ফুটবলে পরবর্তী লক্ষ্য এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের চূড়ান্ত পর্ব। যা ১-১৮ এপ্রিল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের লক্ষ্য এখন এই এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে ভালো করা। মানে কম পক্ষে দুই ম্যাচ জিতে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা।
আসরের ১২ দলের একটি বাংলাদেশ। গত বছর লাওসের মাঠে লাওসকে হারিয়ে আফঈদা খন্দকার প্রান্তিদের এই ছাড়পত্র অর্জন। এখন চূড়ান্ত পর্বের ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে চীন , ভিয়েতনাম এবং স্বাগতিক থাইল্যান্ডকে। টুর্নামেন্টের ফরমেট অনুযায়ী তিন গ্রুপের তিন চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল এবং দুই সেরা তৃতীয় হওয়া দল কোয়ালিফাই করবে নক আউট পর্বে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ব্যর্থ হওয়ার পর লাল-সবুজ জার্সিধারীদের এখন লক্ষ্য থাইল্যান্ডে সফলতার মুখ দেখা। গ্রুপে চীন সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে ধরাছোঁয়ার মধ্যে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। অতীতে উভয়কেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার এই দুই দলকে হারাতে পারলেই গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ার সুযোগ। তাই সিনিয়র জাতীয় দল অস্ট্রেলিয়ায় গেলেও বাফুফে অনূর্ধ্ব-২০ দলকে ক্যাম্পেই রেখেছে। আসরে ১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ থাইল্যান্ডের সাথে। এর পর ৪ তারিখে চীন ও ৭ তারিখে ভিয়েতনামের মুখোমুখি হবে।
এ ছাড়া ‘বি’ গ্রুপে আছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া উজবেকিস্তান ও জর্দান। ‘সি’ গ্রুপের চার দল জাপান, অস্ট্রেলিয়া, চাইনিজ তাইপে ও ভারত।
থাইল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ এর আগে দুই দফা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী আসরের ফাইনাল রাউন্ড খেলেছিল। তা ২০১৬ ও ২০১৯ সালে। উভয় ক্ষেত্রেই গোলাম রাব্বানী ছোটনের দল গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়েছিল। তবে দুই আসরেই বাংলাদেশ দল কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়াকে। প্রথম বার ২-১ গোলে লিড নিয়েও ১০ম জনের লাল-সবুজরা ২-৩ গোলে হেরে যায় সকারুজদের কাছে। পরের বার তহুরা খাতুনের জোড়া গোলে দুই দফা লিড নিয়েও ২-২ গোলে ড্র করা অস্ট্রেলিয়ার সাথে। নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে এটিই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য।
অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ফুটবলে বাংলাদেশ দুই দফা চূড়ান্ত পর্বে খেললেও অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলে এই প্রথম এএফসির আসরের ফাইনাল রাউন্ডে খেলতে যাচ্ছে। এবারের অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের বড় শক্তি সিনিয়র জাতীয় দলের ১১ ফুটবলার। তারা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরেই অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে উঠবেন। এরা হলেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার, স্বর্ণা রানী মণ্ডল, ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার প্রীতি, নবীরন খাতুন, সৌরভী আক্তার আফরিন, মিডফিল্ডার মুনকি আক্তার, স্বপ্না রানী, উমেহেলা মারমা, স্ট্রাইকার সৌরভী আকন্দ প্রীতি, মোসাম্মদ সাগরিকা ও আলপি আক্তার। এদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ম্যাচ খেলেছেন মিলি, আফঈদা, স্বপ্না রানী, উমেহেলা ও প্রীতি।
বাংলাদেশ দল একটু আগে ভাগেই থাইল্যান্ড যাবে। সেখানে তারা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার চেষ্টা করছে চাইনিজ তাইপে ও জর্দানের সাথে।
গ্রুপে বাংলাদেশ যদি দুটি ম্যাচে হেরেও যায় এবং এই দুই ম্যাচে কম গোল হজম করে যদি একটি ম্যাচে ভালো ব্যবধানে জিততে পারে তাহলে বেস্ট থার্ড দল হিসেবে খেলতে পারবে নক আউটে। আর কোয়ার্টার ফাইনালে জিতে সেমিতে গেলেই এ বছর পোল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ^কাপে খেলার সুযোগ মিলবে।