মাদুরোর মুক্তির দাবিতে ভেনিজুয়েলায় বিক্ষোভ
Printed Edition
এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক অভিযানে ভেনিজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তার হাজারও সমর্থক। মঙ্গলবার রাজধানী কারাকাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘ভেনিজুয়েলায় নিকোলাসকে প্রয়োজন’। বিক্ষোভে অংশ নেয়া অনেক সরকারি কর্মচারীর হাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের ছবি দেখা যায়। ফ্লোরেসকেও ওই মার্কিন অভিযানে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, সরকারের আহ্বানে আয়োজিত এই মিছিলটি ছিল কয়েক শ’ মিটার লম্বা। পাশে ট্রাকে বাজতে থাকে উচ্চস্বরে সঙ্গীত। বিক্ষোভকারীদের অনেকে ভেনিজুয়েলার পতাকা ও ‘শাভিস্তা’ আন্দোলনের লাল পোশাক পরে ছিলেন। এই আন্দোলনের নাম এসেছে মাদুরোর সমাজতান্ত্রিক পূর্বসূরি হুগো শ্যাভেজের নাম থেকে।
৫৮ বছর বয়সী পৌরসভা কর্মচারী হোসে পেরদোমো বলেন, আমরা বিভ্রান্ত, দুঃখিত, রাগান্বিত। অনেক আবেগ কাজ করছে। অবশ্য পেরদোমো অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সিদ্ধান্তের প্রতি তার সমর্থনও জানান। তিনি আরো বলেন, আগে হোক বা পরে, আমাদের প্রেসিডেন্টকে মুক্তি দিতেই হবে। ভেনিজুয়েলার জাতীয় পরিষদের ডেপুটি ও মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা বলেন, এই মানুষগুলো আমেরিকান নয়। আমরা গভীর এক সাম্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনা গড়ে তুলেছি।
মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রদ্রিগেজ তার সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে চললে তিনি তার সাথে কাজ করতে রাজি। বিশেষ করে, ভেনিজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে।
এদিকে, চাপে পড়ে রদ্রিগেজ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্ত করা শুরু করেছেন ও রাষ্ট্রায়ত্ত হাইড্রোকার্বন শিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ খুলে দিয়েছেন। ২০১৯ সালে মাদুরোর প্রথম পুনর্নির্বাচন ‘চুরি’ করা হয়েছে অভিযোগে যেদিন দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, সেই সম্পর্ক আবার জোড়া লাগছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কারাকাসে মার্কিন দূত লরা ডোগুর আগমন সেই ইঙ্গিত বহন করে।