জাপানের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান দাবি মূল্যস্ফীতি থেকে মুক্তি
Printed Edition
আলজাজিরা
টোকিওর গ্রাফিক ডিজাইনার ও দুই সন্তানের মা তোমোকো ইদা জানিয়েছেন, বাড়তি দামের কারণে তার পরিবারে এখন আর প্রতিদিন জাপানি চাল খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক বছর আগে ৫ কেজি চালের দাম ছিল প্রায় তিন হাজার ইয়েন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার থেকে পাঁচ হাজার ইয়েন। মাসে প্রায় ১০ কেজি চাল খরচ হয় তাদের, তাই কয়েক দিন পাস্তা বা নুডলস খেয়ে চাল বাঁচাতে হচ্ছে।
ইদার মতো লাখো জাপানি ভোটারের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) জোটের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিরোধী সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স। গত এক বছরে মজুরি মূল্যস্ফীতির সাথে তালমেলাতে পারেনি। নভেম্বর মাসে প্রকৃত মজুরি ২.৮ শতাংশ কমেছে, যা টানা ১১ মাসের পতন। খাদ্যের দাম বেড়েছে আরো দ্রুত। ২০২৩ সালের খারাপ ফলনের কারণে গত বছর চালের দাম প্রায় ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। দুর্বল ইয়েনের কারণে আমদানি করা খাবার যেমন কফি ও চকোলেটের দামও বেড়েছে। ২৯ বছর বয়সী আইটি পরামর্শক নাও হানাওকা বলেন, ব্রিটিশ চায়ের দাম আগের তুলনায় দেড়গুণ হয়ে যাওয়ায় তিনি কেনেননি। দুর্বল ইয়েনের কারণে বিদেশে সম্মেলনে অংশ নেয়ার পরিকল্পনাও বাতিল করতে হয়েছে। এনএইচকে পরিচালিত এক জরিপে ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, দাম কমানোর পদক্ষেপই তাদের ভোটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক কোইচি নাকানো বলেন, আয় না বাড়ায় মানুষ মনে করছে মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসও আর সহজে কেনা যাচ্ছে না। কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খরচও বাড়ছে, যা পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার জোট ক্ষমতায় ফিরলে দুই বছরের জন্য খাদ্য ও কোমল পানীয়তে ৮ শতাংশ ভ্যাট স্থগিত করবেন। এর আগে তিনি ২১.৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, যাতে বিদ্যুৎ বিল ভর্তুকি, নগদ সহায়তা ও খাদ্য কুপন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। জাপানের ঋণ-জিডিপি অনুপাত উন্নত অর্থনীতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি-২৩০ শতাংশ। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সরকারি বন্ড বিক্রি করে দিয়েছেন, ফলে সুদের হার বেড়েছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, অনেকেই মনে করেন ভ্যাট স্থগিত করা দাম কমাতে কার্যকর হবে না।