নেহা নদী পুনঃখনন উদ্বোধন
আসছে কঠিন সময় জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে : মির্জা ফখরুল
Printed Edition
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতায় সামনে আমাদের কঠিন সময় আসছে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি ধৈর্য ও সাহসের সাথে মোকাবেলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। গত সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ভাউলারহাট এলাকায় ৫.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নেহা নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের সঙ্কটকে কেন্দ্র করে আইন হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘তেল না পেয়ে পেট্রলপাম্প ভাঙচুর করে মব সৃষ্টি করা বরদাশত করা হবে না। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা মব শক্ত হাতে দমন করা হবে।’
‘দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে ২০ হাজার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই মহতী উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশে আজ পানির সমস্যা হতো না। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘উদ্বোধনের পর এই কাজ যেন থেমে না যায়। অতীতের মতো নয়, বরং স্বচ্ছতার সাথে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।’ ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা জান্নাতের টিকিট বিক্রির রাজনীতি করি না; বরং কঠোর পরিশ্রম ও জনসেবার মাধ্যমেই স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাই।’
দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি চাই বিএনপি নেতারা যেন সঠিক পথে চলে। নেতাদের প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণে আমি সব জায়গায় ‘রাডার’ ফিট করেছি। সামান্য ত্রুটি বা বিচ্যুতি পেলেও কাউকে ক্ষমা করা হবে না। সেক্ষেত্রে নেতৃত্বের পদ বাতিলের পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সরকারের কল্যাণমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মহিলাদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেয়া হচ্ছে, যা পরিবারে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। একইভাবে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা সহজে উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচসুবিধা পাবেন। নদী ও খাল খননের ফলে কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন পানির সুবিধা পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৫.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নেহা নদী পুনঃখনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।