মাহিরা-হুমায়ুনের ‘লাভ গুরু’ প্রেম, হাসি ও হৃদয়ভাঙার গল্প

সাকিবুল হাসান
Printed Edition
bino-1
মাহিরা-হুমায়ুনের ‘লাভ গুরু’ প্রেম, হাসি ও হৃদয়ভাঙার গল্প

এই ঈদুল আজহায় পাকিস্তানি সিনেমাপ্রেমীদের জন্য বড় চমক নিয়ে আসছে লাভ গুরু- রোমাঞ্চ, কমেডি ও আবেগের মিশেলে তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদনমূলক ছবি। জনপ্রিয় অভিনেতা হুমায়ুন সাঈদ ও মাহিরা খান প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায়, যা মুক্তি পাবে ৬ জুন।

বাংলাদেশেও যেহেতু পাকিস্তানি বিনোদন কনটেন্টের জন্য রয়েছে উল্লেখযোগ্য দর্শকগোষ্ঠী- বিশেষ করে মাহিরা ও হুমায়ুনের জনপ্রিয়তা বাংলাদেশে কম নয়, তাই লাভ গুরু ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দুই বাংলার ফ্যানদের মধ্যে।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে হুমায়ুন সাঈদ, একজন প্রেম-বিশেষজ্ঞ বা ‘লাভ গুরু’, যিনি প্রেমে বিপর্যস্ত মানুষকে ‘বাঁচাতে’ এগিয়ে আসেন। তার চরিত্রটি শুরুতেই দেখা যায়, পালিয়ে যাওয়া এক কনেকে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন। মজার সংলাপে বোঝা যায়- তিনি নিজেই বহু নারীর প্রেমে পড়েছেন এবং নিজেকে প্রেমের মুক্তিদাতা হিসেবে ভাবেন।

তবে গল্পের মোড় ঘোরে যখন তিনি লন্ডনে মাহিরা খানের চরিত্র সোফিয়াকে নিয়ে এক নতুন মিশনে যুক্ত হন- সোফিয়া একজন স্থপতি, যে বিয়ে করতে চলেছে নিজের পছন্দের মানুষকে, তবে তার পরিবার রাজি নয়। হুমায়ুনের চরিত্র সেখানে পাঠানো হয় বিয়ে ঠেকাতে; কিন্তু সেখানেই গড়ে ওঠে এক অনাকাক্সিক্ষত আবেগের সম্পর্ক।

সোফিয়ার সাথে দেখা হওয়ার পর ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে হুমায়ুনের ‘ফ্লার্টি’ চরিত্রটি। দীর্ঘ ড্রাইভ, হট এয়ার বেলুনে রোমান্টিক ভ্রমণ, বিয়ের অনুষ্ঠানঘেরা মুহূর্ত- সবকিছু মিলিয়ে দুই চরিত্রের মধ্যে এক অপ্রকাশ্য আকর্ষণ তৈরি হয়। সোফিয়া যখন বলেন, ‘আমি আট দিন পর বিয়ে করছি’ তখন বোঝা যায় এই সম্পর্কের শেষ গন্তব্য অনিশ্চিত। ট্রেলারে হুমায়ুনের সংলাপ, ‘ইচ্ছে ছিল, আরো আগে যদি দেখা হতো’ এবং মাহিরার জবাব, ‘সব কথা বলা যায় না’ এই চলচ্চিত্রের মূল আবেগিক সুরটি তুলে ধরে।

ট্রেলারে চমৎকার সিনেমাটোগ্রাফি লক্ষ করা গেছে। লন্ডনের আলোকোজ্জ্বল রাস্তাঘাট, প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং ঐতিহ্যবাহী বিয়ের আয়োজন- সবমিলিয়ে ছবির ভিজ্যুয়াল দিকটি সমৃদ্ধ। মাহিরা খানকে দেখা গেছে একাধিক শাড়িতে, প্রতিটি লুকেই তিনি ছিলেন অনবদ্য।

ছবির আবেগঘন দৃশ্যগুলোর সাথে সঙ্গত করেছে হৃদয়স্পর্শী একটি গান, যা ট্রেলার শেষে গেয়ে ওঠে। মাহিরার কণ্ঠে মুনীর নিয়াজির কবিতার লাইন- ‘হামেশা দের কর দেতা হুঁ ম্যায়’ এই গল্পের একরকম সারাংশ হিসেবেই কাজ করে। লাভ গুরু পরিচালনা করেছেন নাদিম বেগ এবং লিখেছেন বাসার চৌধুরী- যিনি জাওয়ানি ফির নেহি আনি, লন্ডন নহি জাউঙ্গার মতো হিট ছবির চিত্রনাট্য করেছেন। ছবিতে আরো অভিনয় করেছেন সোহাই আলি আবরো, মীরা সেঠি, মোমিনা ইকবাল, রামশা খান ও জাভেদ শেইখ। প্রযোজনায় আছেন সালমান ইকবাল, হুমায়ুন সাঈদ, শহজাদ নাসীব ও জারজিস সেজা।

যদিও এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, ছবিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে কি না, তবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকরাও এটি উপভোগ করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাহিরা ও হুমায়ুন, দু’জনেই বাংলাদেশে নাটক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে পরিচিত নাম, যার ফলে সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ একেবারেই প্রাকৃতিক।