হেলথ টিপস

ডান্সিং আই রোগের লক্ষণ

Printed Edition

টিভির পর্দা যদি অনবরত কাঁপতে থাকে বা বিরতিহীন ভাবে নাচতে থাকে, তা হলে দৃশ্যপট যেমন দেখাবে, ঠিক তেমনই অভিজ্ঞতা হয় ‘ডান্সিং আই’ রোগে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এর নাম ‘নিস্ট্যাগমাস’।

রোগটি নিয়ে সচেতনতা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ লাখ লাখ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। চোখ নাচার লণ দেখা দিলে, একে সাধারণ চোখের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান অনেকেই।

নিস্ট্যাগমাস বা ডান্সিং আই আসলে একটি স্নায়বিক ব্যাধি। যাতে চোখের মণি ক্রমাগত নির্দিষ্ট ছন্দে নড়াচড়া করতে থাকে। একে নিজে থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, এই রোগে আক্রান্তদের চোখ স্থির থাকে না। মণি অনবরত ডানে-বামে, উপরে-নিচে চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। দেখে মনে হবে, তিনি চোখ ঘুরিয়ে কথা বলছেন বা মণি যেন নেচে বেড়াচ্ছে।

রোগটির সাথে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। অেিগালকের নড়াচড়া মস্তিষ্কের এবং নির্দিষ্ট কিছু স্নায়ুর সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে। চোখ কখন স্থির থাকবে ও কখন নড়াচড়া করবে তা নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের সেরিবেলাম অংশটি। শরীরের ভারসাম্য রা, পেশির সঙ্কোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করায় এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তা ছাড়া মস্তিষ্ক থেকে সঙ্কেত পরিবাহী স্নায়ুপথ ব্রেনস্টেম এবং কানের ভিতরের ভেস্টিবুলার সিস্টেমও শরীরের ভারসাম্য রাখতে ও মস্তিষ্ক থেকে সঙ্কেত পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা নেয়। এই সেরিবেলাম বা ব্রেনস্টেম যদি তিগ্রস্ত হয় বা সেখানে প্রদাহ তৈরি হয়, তখন মস্তিষ্ক থেকে আসা সঙ্কেতগুলি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। সেগুলির সঠিক সমন্বয় ঘটে না। ফলে চোখের পেশিতেও ভুল সঙ্কেত পৌঁছোয় ও চোখ অনবরত নড়াচড়া করতে থাকে। এই স্নায়বিক বিশৃঙ্খলাই ডান্সিং আই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।

ডান্সিং আই ধরা পড়লে শুরু থেকেই চিকিৎসা প্রয়োজন। এমআরআই স্ক্যান, আই-ট্র্যাকিং সফটওয়্যার দিয়ে রোগটি চিহ্নিত করা যায়। এই সমস্যা রাতারাতি সারিয়ে ফেলার কোনো চিকিৎসা নেই। মণির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য লেন্স পরানো হয় অনেক সময়ে। তা ছাড়া সমস্যা বাড়লে চোখের কাঁপুনি কমাতে অস্ত্রোপচারও করা হয়ে থাকে। ইন্টারনেট