নীলফামারীতে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম

Printed Edition

নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পচা ডিম ও নিম্নমানের কলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের এই পুষ্টি কার্যক্রমের এমন অব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলার পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পচা ডিম দেয়ার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও ওই বিদ্যালয়ে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ডিম সরবরাহ করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু হওয়া এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয়ের ২১ হাজার ৩৩৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। মনোয়ার হোসেন নামের এক অভিভাবক বলেন, পুষ্টির বদলে পচা খাবার দিলে শিশুরা তো অসুস্থ হয়ে পড়বে। সরকারি উদ্যোগে এমন অনিয়ম মেনে নেয়া যায় না। প্রকল্পের তদারকি ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দেয়ার পর দেখা যায় অনেকগুলো ডিমই পচা। পচা ডিম খাওয়ার যোগ্য নয়, তাই সেগুলো ফেরত নেয়া হয়েছে। অভিভাবক সালমা বেগমের অভিযোগ, শুধু এই বিদ্যালয়েই নয়, আশপাশের আরো কয়েকটি স্কুলেও একই চিত্র দেখা গেছে। বারবার শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম বলেন, পচা ডিম দেয়া গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।