সংসদে সাবিকুন্নাহার
মাদকে ভেজাল নেই, খাদ্যে ভেজাল এটা আশ্চর্যজনক
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে মাদকে ভেজাল না থাকলেও মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে ভেজালের ছড়াছড়ি নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাবিকুন্নাহার। তিনি বলেন, ফলের মৌসুমে মানুষ বুঝতে পারে না কোন ফল নিরাপদ আর কোনটি ফরমালিনমুক্ত। মাদকে ভেজাল নেই, অথচ খাদ্যে ভেজাল- এটা সত্যিই আশ্চর্যজনক।
এর জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী জানিয়েছেন, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকার বিশেষ কমিটি গঠনসহ নজরদারি, মোবাইল কোর্ট ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।
গতকাল স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর এবং লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য উঠে আসে।
সম্পূরক প্রশ্নে সাবিকুন্নাহার বলেন, মৌসুমে বাজারে প্রচুর ফল থাকলেও সাধারণ মানুষ দ্বিধায় থাকেন কোন ফলটি কিনবেন। কোনটি ফরমালিনমুক্ত, কোনটি নিরাপদ তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভেজালের এই চাদরে ঢাকা বাস্তবতায় মাদকে ভেজাল না থাকাটা বিস্ময়কর। জনগণকে ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চাই।
জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ভেজাল খাদ্যের কারণে দেশে ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা খাদ্যদ্রব্য ভেজালমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও কার্যক্রম তদারকি করবে। কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যে ভেজাল নির্মূলে সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
আরেক লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী নিয়মিত বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
তিনি বলেন, আম, শুঁটকি মাছ, খেজুরের গুড়সহ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিপণনের সাথে সংশ্লিষ্ট তিন হাজার ৩৪০ জন খাদ্যকর্মীকে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৫টি সেমিনার, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ৯৪টি সাধারণ ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিয়েছে ৯ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী।
মন্ত্রী জানান, বিএফএসএর কর্মকর্তারা ছয় হাজার ৪৪৪টি খাদ্য প্রতিষ্ঠান ও বাজার তদারকি করেছেন। সরকার স্বীকৃত পরীক্ষাগারে ৬৭০টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ল্যাবে তিন হাজার ৫৭৪টি এবং মিনি ল্যাবে চার হাজার ৯৩৮টি খাদ্য নমুনার তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর আওতায় ১৭১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই হাজার ৩৯০ জন গৃহিণীর অংশগ্রহণে ৫১টি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।