বিমানে ওয়ার্কার ফেয়ার টিকিট কাটার সময় শেষ হচ্ছে ৩০ জুন

মালয়েশিয়া ও সৌদিগামী কর্মীদের জন্য মূল্য হ্রাস

মনির হোসেন
Printed Edition
Biman

শুধু সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য একক যাত্রার টিকিটের ক্ষেত্রে ‘ওয়ার্কার ফেয়ার’ নামে যে মূল্যহ্রাস বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ চালু করেছিল সেটির সময় শেষ হতে যাচ্ছে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে। তবে এই সময়ের পর বিদেশগামী কর্মীরা ওয়ার্কার ফেয়ার মূল্যে টিকিট কাটার সেবা পাবেন কি না তা জানার জন্য বিদেশগামী কর্মীদের পাশাপাশি ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বিষয়টি বিবেচনা করে আবারো সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সাথে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবের পাশাপাশি এবার ঢাকা-দোহা রুটেও মূল্যহ্রাস করার ঘোষণা দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (বিমান শাখা) যুগ্মসচিব মো: সফিউল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, বিমান মন্ত্রণালয়ের এক স্মারকে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড কর্তৃক সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য নতুন কর্মী ভিসা এবং একক যাত্রা টিকিটের ক্ষেত্রে ওয়ার্কার ফেয়ার নামে টিকিটের মূল্যহ্রাস করা হলো। টিকিটের মূল্যহ্রাসের মধ্যে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের জেদ্দায় ৪৮০ ডলার, মদিনাগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য ৪৩০ ডলার, রিয়াদের জন্য ৪০০ ডলার এবং ঢাকা-দাম্মাম রুটে ৪০০ ডলার পূর্বের ভাড়া নির্ধারিত ছিল। সেটি কমিয়ে বর্তমানে বিদেশগামী কর্মীদের ক্ষেত্রে ৩৬০ ডলার নির্ধারণ করা হলো।

অপর দিকে ঢাকা কুয়ালালামপুর রুটে আগের মূল্য নির্ধারিত ছিল ১৭৫ ডলার। সেটিও কমিয়ে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫০ ডলার (করব্যতীত)। এক্ষেত্রে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় শর্ত জুড়ে দেয়। সেখানে বলা হয়েছে, যাত্রীকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) স্মার্টকার্ডধারী হতে হবে। এই হ্রাসকৃত মূল্যর টিকিট চলতি জুন মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দেয়া শর্ত অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়মে টিকিট কাটার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে এই নিয়ম আবারো বিদেশগামী কর্মীদের জন্য কর্তৃপক্ষ চালু করবে কিনা তা জানতে কর্মী এবং ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিকরা নানাভাবে খোঁজ নিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে গতকাল আটাবের সাবেক সিনিয়র নেতা ও প্যান ব্রাইট ট্র্যাভেলস অ্যান্ড টুরসের স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন মিন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াগমী শ্রমিকদের একক যাত্রার টিকিট কেনার ক্ষেত্রে যে মূল্যহ্রাস দেয়া হয়েছিল সেটি এখনো অব্যাহত আছে। তবে আমার জানা মতে, ওয়ার্কার ফেয়ার নামে টিকিটে বিমান কর্তৃপক্ষ যে মূল্যহ্রাস ঘোষণা করেছে আসলে ওই ক্লাসের টিকিট কর্মীরা সেইভাবে কিনতে পারছে না।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ-ও বলেন, সরকার যে সময় বিমান টিকিটের মূল্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল ওই সময়ের কয়েক দিন পরই সৌদি আরব সরকার ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেয়। একইভাবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারও অদ্যাবধি ঝুলে আছে। শ্রমবাজার যেখানে বন্ধ সেখানে ওয়ার্কার ফেয়ারের সুযোগ নিয়ে টিকিট কাটারও তো সুযোগ নেই। সামনে শ্রমবাজার খুললে হয়তো তখন জানতে পারব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মূল্যহ্রাসে বিদেশগামী কর্মীরা টিকিট কাটতে পারছেন কি পারছেন না।

তবে এ ব্যাপারে সুখবর দিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবীর। গতকাল রাতে তিনি এই প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের বিদেশগামী শ্রমিকদের স্বার্থে ওয়ার্কার ফেয়ার নামে হ্রাসকৃত মূল্যে টিকিট বিক্রি করার সময় ছয় মাস এক্সটেনশন (বাড়ানো) করা হয়েছে। শুরুতে মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরব তালিকায় ছিল। এবার এরসাথে ঢাকা-দোহা রুট যোগ হয়েছে। এই রুটের যাত্রীরাও হ্রাসকৃত মূল্যে টিকিট কিনতে পারবেন। এক প্রশ্নের উত্তরে রওশন কবীর নয়া দিগন্তকে বলেন, পর্যায়ক্রমে আমরা মিডলইস্টের অন্যান্য কান্ট্রিতেও এই নিয়ম চালু করার পরিকল্পনা করছি।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে ঢাকা-কুয়ালামপুর-ঢাকা রুটে একটি বিমানের টিকিট কাটতে খরচ হতো লাখ টাকার মতো। একইভাবে ঢাকা-দুবাই-ঢাকা, ঢাকা সৌদি আরব-ঢাকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিমানের টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বিদেশগামী যাত্রীরা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত অথবা অন্যান্য দেশ থেকে যাত্রীরা কম টাকায় টিকিট কিনে ঢাকায় ফিরতে পারছিলেন সহজেই। এ নিয়ে আটাবের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। এরপরই বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত হয় উচ্চপর্যায়ের কমিটি। তারপরই বিমানের মালয়েশিয়া ও সৌদিগামী কর্মীদের ক্ষেত্রে টিকিটের দাম কমানোর ঘোষণা আসে।