বসুন্ধরা সিটিতে ভিড় বাড়লেও বিক্রিতে সন্তুষ্ট নন সব ব্যবসায়ী

ঈদ বাজার

Printed Edition
back-2
বসুন্ধরা সিটিতে ভিড় বাড়লেও বিক্রিতে সন্তুষ্ট নন সব ব্যবসায়ী

হাবিবুল বাশার

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজধানীর শপিংমলগুলোতে কেনাকাটার ব্যস্ততা বাড়ছে। নগরীর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ঠেলে প্রিয়জনের উপহার বেছে নিতে মানুষ ছুটছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। এরই ধারাবাহিকতায় পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স সেজেছে আলোকসজ্জা আর নতুন ঈদ কালেকশনে। তবে ক্রেতাদের পদচারণা থাকলেও বিক্রির খাতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ছুটির পর সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতা চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। তবে এই ভিড়ের মধ্যেও কিছু ভিন্ন চিত্র চোখে পড়ে। বেসমেন্টের মোবাইল এক্সেসরিজ দোকানের স্টাফ রাকিব রাব্বি জানান, সাধারণত ২০ রোজার পর প্রচণ্ড চাপ থাকে; কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি এখনো দেখা যাচ্ছে না। অন্য একটি এক্সেসরিজ দোকানের বিক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, দুই দিন আগে তাদের কোনো বিক্রিই হয়নি।

শিশুদের পোশাকে ভিড়, বড়দের বাজারে অপেক্ষা

মার্কেটে শিশুদের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও অন্যান্য অনেক দোকানে সেই তুলনায় জৌলুস কম। ক্রেতা টানতে অনেক শপ ৫% থেকে শুরু করে ৫০% পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। তবুও সমাগম নিয়ে ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত। ‘ইলা শপ’-এর ম্যানেজার ইমরান আলম জানান, সকল এক্সপোর্ট আইটেমে ২০% ছাড় দিয়েও বেচাকেনা আশানুরূপ নয়। নির্বাচনের পর বাজার স্থিতিশীল হওয়ার আশা করলেও পরিস্থিতি এখনো থমথমে।

পোশাকের বৈচিত্র ও শাড়ির বাজারে খরা

বসুন্ধরা সিটির এবারের ঈদ বাজারে দেশী ও বিদেশী ব্র্যান্ডের নিখুঁত সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। ‘দেশী দশ’, ‘আড়ং’, ‘জেন্টলপার্ক’ ও ‘সিলোর’-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোতে ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি আছে। তবে লেভেল থ্রির ঐতিহ্যবাহী শাড়ির দোকানগুলোতে চলছে মন্দা। ‘শালিমার’ দোকানের ম্যানেজার আবদুল কাইয়ুম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘করোনার সময়েও আমাদের বেচাকেনা ভালো ছিল; কিন্তু এবার সাতজন স্টাফ নিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতা পাচ্ছি না। গত কয়েক বছরে এমন কম বিক্রি আর দেখিনি।’

তবে এর বিপরীতে ‘জামদানি হাউজ’-এ বিক্রি মোটামুটি চললেও তারাও বলছেন তা প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়। রাজকীয় পোশাকের সমাহার হচ্ছে খান ব্রাদার। সব ধরনের জৌলুসপূর্ণ পোশাক এখানে পাওয়া যায়। যেখানে পোশাকের দাম ৫ ডিজিটের। এখানকার একজন কর্মচারী মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দোকানে আসি, বেশ রাতে বাসায় যাই। কাস্টমার না থাকলে ঘুমে ধরে।

জাপান প্রবাসী সিরাজুল ইসলাম পেশায় দোভাষী। তিনি তাদের ভাই ভাতিজাকে নিয়ে এসেছেন মার্কেটে। তার ভাই ভাতিজারা সবাই জাপানি নাগরিক। সিরাজুল ইসলাম বলেন, শপিংমলে এসে ভালো লাগলো কিন্তু কেনাকাটা তেমন বেশি করিনি। পাঁচ থেকে ছয় জোড়া জুতো কেনা হয়েছে। আর টুকিটাকি জিনিসপত্র কিনেছে।

জনপ্রিয় ট্রেন্ড : প্যাস্টেল, লিনেন ও পাকিস্তানি ব্র্যান্ড

এবারের ঈদে তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে লিনেন ও অর্গাঞ্জা কাপড়ের ওপর ভারী কাজ করা পোশাক। ‘লামিসা কালেকশন’-এর ম্যানেজার মোতালেব হোসেন জানান, পাকিস্তানি মারিয়াবি, আগানুর এবং সাদাবাহার-এর পোশাকগুলো উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ। পুরুষদের ক্ষেত্রে হালকা প্যাস্টেল রঙের পাঞ্জাবি ও ফিউশন স্টাইলের কুর্তা বেশি বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা

মিরপুর থেকে আসা ক্রেতা রাফিয়া ইসলাম জানান, এক ছাদের নিচে সবকিছু পাওয়াই এখানে আসার মূল কারণ। মগবাজারের ডা: হোসেন বলেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ হওয়ায় পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে শপিং করা যাচ্ছে।

মার্কেট নিয়ন্ত্রণকারীরা জানান, ৩০০ জনের অধিক কর্মী বিভিন্ন শিফটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছেন। স্বাভাবিক দিনগুলোতে ভিড় কম থাকলেও শুক্রবার ও শনিবার ক্রেতাদের চাপ বাড়ে। ব্যবসায়ীদের শেষ ভরসাও এখন রমজানের শেষ কদিন এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোর ওপর।