সাম্য, সুশাসন ও শরিয়াহর প্রাধান্য
ইসলামী আন্দোলনের ৩০ দফা ইশতেহার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ৩০ দফা ‘মৌলিক ইশতেহার’ ও ৪২ দফার খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
গতকাল বুধবার রাজধানীর ইএবি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির মুফতি রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
এ সময় ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা আমিরের সাথে থেকে ইশতেহারের বিভিন্ন দিক ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন। ইশতেহারে দুর্নীতি নির্মূল, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সব স্তরে ইসলামের মৌলিক নীতিমালা ও শরিয়াহর প্রাধান্য নিশ্চিত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন তাদের ইশতেহারকে তিনটি প্রধান অধ্যায়ে বিভক্ত করেছে : ১. রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান, ২. রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা এবং ৩. খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।
রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে দলটি বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তে পিআর (চৎড়ঢ়ড়ৎঃরড়হধষ জবঢ়ৎবংবহঃধঃরড়হ) বা আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং গুম-খুন ও গায়েবি মামলার সংস্কৃতি চিরতরে বিলোপের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ইশতেহারের প্রধান ৩০ দফার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ
সুশাসন ও ধর্ম : রাষ্ট্র পরিচালনায় শরিয়াহর প্রাধান্য এবং মানুষের কল্যাণে ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়।
দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূল : দুর্নীতি ও অনৈতিক পেশার সাথে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণ এবং সন্ত্রাস ও দখলবাজিমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
শিক্ষা ও ওলামা কল্যাণ : সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এবং কওমি মাদরাসার সনদধারী আলেমদের রাষ্ট্রীয় পদে পদায়ন ও সরকারি সুযোগের আওতায় আনা।
নারী ও শ্রমিকের অধিকার : নারীদের জন্য শুধু সম-অধিকার নয়, বরং অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি : ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা।
বিশেষ ১২টি কর্মসূচি : সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ১২টি বিশেষ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে :
হতদরিদ্রদের জন্য মাসিক পাঁচ হাজার টাকা নগদ সহায়তা।
প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার।
১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন ঋণ।
সার্বজনীন স্বাস্থ্য কার্ড এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষিকার্ড চালু।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের দাবি। দলের আমির মুফতি রেজাউল করিম তার বক্তব্যে বলেন, পৃথিবীর মোড়লরা নারীদের পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে তাদের অবমূল্যায়ন করেছে। একমাত্র ইসলামই নারীর সর্বোচ্চ সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এ সময় দলটির নায়েবে আমির, মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে দেশবাসীকে এই ইশতেহারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।